Skip to main content

Posts

Showing posts from October, 2025

বাবা

একটা উঠান, উঠানের মাঝখানে চাটাই পাতা। সেইখানে শুয়ে আছে আমার জন্মদাতা, আমার বাবা। অনেক বছর আগে, ঠিক এভাবেই শেষ দেখেছিলাম আমার ঠাকুরমাকে বাবার মতোই শুয়ে ছিলো নিথর দেহে, নিষ্প্রাণ হয়ে।  সেদিন আমি অবুঝ ছিলাম  বেদনার বোধ ছিলোনা আমাতে সবার কান্না দেখে কেঁদে যাওয়া,  কিন্ত আজ, বুকের মাঝে পাহাড়সম কষ্টের বুঝা, নিরবিচ্ছিন্ন জলপ্রপাতে হালকা হবার চেষ্টা। কিন্ত কিভাবে, কেমন করে ভুলে যাই? সেই আঙ্গুল, যার অবলম্বনে হাঁটতে শেখা, মেরুদন্ড দাঁড় করিয়ে মানুষ হওয়া।  বাবার শরীর আজকে হীম শীতল, নিথর - শান্ত মনে শয্যাশায়ী,  মনের মধ্যে বাবা হারানোর চির অশান্তির আগুন,  মাঝে মাঝে বিশ্বাস না করলেও করে নিতে হয়,  বাবা হারানোর ব্যথা আমরণ বয়ে বেড়াতে হয়। 

কলরবের গল্প

চাপা পড়ে থাকা নিঃশব্দের মাঝেও এক ধরনের শব্দ থাকে। যেটা কানে নয়, মনে লাগে। মাঝে মাঝে সেই শব্দ শোনার ইচ্ছে জাগে প্রবলভাবে। শহরের ভেতর দাঁড়িয়ে যখন চারপাশে কেবল হর্ন, চেঁচামেচি আর মানুষে-মানুষে মিশে যাওয়া কথার গোলমাল কানে আসে, তখনই মনে হয় কলরবে কলরবে আছে অনেক পার্থক্য। লোকালয়ের কলরব একরকম। সেখানে শব্দ মানেই ব্যস্ততা, তাড়াহুড়া, প্রতিযোগিতা। সবাই কিছু না কিছু পেতে ছুটছে, অথচ সেই পাওয়াটা আসলে কী তা কেউ স্পষ্ট করে জানে না। মানুষের এই মিশ্রিত শব্দের ভেতরে শান্তি নেই; আছে কেবল একরকম কোলাহল, যা ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটা ইন্দ্রিয়কে। অন্যদিকে আছে আরেক রকম কলরব, যেটা নিরালায় শোনা যায়। পাখিদের মিছিলে ভেসে আসা ডাক, বাতাসে পাতার দোল, গাছের আড়ালে থেকে ভেসে আসা লুকিয়ে থাকা চড়ুই এর শীষ। এই কলরব গোলমাল নয়, বরং একধরনের ছন্দ। তীব্র গরমের দিনে হাপিয়ে পড়া মন যেন সেই সুরেই সামান্য স্বস্তি খুঁজে পায়। দুই কলরবের এই পার্থক্য আসলে আমাদের জীবনবোধের প্রতিচ্ছবি। আমরা প্রতিদিন এমন এক ব্যস্ততার মধ্যে বাঁচি, যেখানে শব্দই আমাদের সঙ্গী, কিন্তু সেই শব্দের ভেতরে কোনো সুর থা...