Skip to main content

Posts

আপনের দিনগুলি-০৫

ছোটবেলা থেকেই গিটার শিখার শখ ছিল আপনের। ছোটবেলা থেকে বললে বলা ভুল হবে। বলা ভালো ভার্সিটি উঠার পর তার সে সুপ্ত শখ খুব তীব্র আকারে প্রকাশ পায়। ছোটবেলা থেকে গান আর সুরের প্রতি তার একটা  ঝোঁক   কাজ করত। পরিবারে সঙ্গীতজ্ঞ মানুষের অভাব না থাকার কারনে স্বভাবেই তার সুর বেঁধে গিয়েছিলো।  তার বড় বোন খুব ভালো গান করতো। স্থানীয় প্রতিযোগিতায় তার গানের কারণে পাওয়া পুরষ্কারে ভর্তি ছিলো বাড়ির একমাত্র আলমারি। পুরষ্কার বলতে কাচের প্লেট ছিলো প্রথম পুরস্কার। যেখানে যা দিয়ে গুনীর কদর করা আর কি।  তো বড় বোন তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে যেতে পারেনি। তার পরিবারের মধ্যে এই একটা সমস্যা এখনও বর্তমান বলে ধরে নেওয়া যায়। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও স্বপ্নের আকাশটাকে কেউই তারা বড় করে দেখতে পারেনি। মধ্যবিত্ত জীবনে এক লোকের দুই পরিবার চালাতে হলে অনেক জীবন আর স্বপ্নের বিসর্জন দিতে হয়। আর পরিবার বড় হলে তো কথাই নেই। তারপরও এসব দেখতে দেখতে আর এসবের মধ্যে থাকতে থাকতেই কিনা তার মধ্যেও সবকিছু নিয়ে একটা জড়তার ভাব চলে আসে। তারউপর অন্তর্মুখী মানুষের চোখ অন্তরের দিকে থাকার কারণে সেভাবে মানুষজনের সাথে তার ...
Recent posts

সিনেমার গল্প

  “মে ভাপাস আউঙ্গা”- আমি আবার আসব।  ভারতবর্ষ ভাগ নিয়ে আরও একটা ছবি দেখলাম। ভালোই লাগল সিনেমাটা। আগের মতো এখন আর  নিয়ম করে সিনেমা দেখা হয়না। মাঝে মাঝে নির্বাচিত কিছু সিনেমা দেখা আর কি। মানে আগ্রহ তৈরি করতে পারলেই তবে সেটা দেখা। এই সিনেমাটা দেখার পেছনে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে সেটা মূলত এই ছবির একটা গান থেকে।  “জ্যায়সে তু হ্যায় পাস মেরি, তেরে পাস ম্যায়, জ্যায়সে শাম কে সাভেরে, তেরে পাস ম্যায়…”   গানটা প্রথম শুনার পর থেকেই মনে কেমন একটা অনুভূতি খেলে গেলো। মনে হচ্ছিলো, শব্দগুলো যেন আমার মনের মধ্যে আগে থেকেই থাকা কিছু কথার বোনন দেখিয়ে গেলো। চলতে চলতে একটু আনমনা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। তারপর একটা গান একবার ভালো লেগে গেলে বারবার শোনা। তেমনই কতবার যে গানটা শোনা হয়েছে তার কোন হিসাব আর না করলাম।   সিনেমার গল্পটা দেশভাগের সময়কার। এক শিখ ছেলে আর এক মুসলমান মেয়ের মধ্যে দেশভাগের সময় গড়ে উঠা প্রণয় ও পরিণতি নিয়েই এই সিনেমা। যদিও সময়টা সুসময় ছিলোনা। জাতিগত দাঙ্গার দোলনচলে দোলে উঠে তাদের প্রেম। অসম প্রেমের গল্পগুলো কেমন জানি অমিল থাকে সবসময়। একে তো থাকে সমাজের...

অস্বাভাবিকতার অসাড় চক্র

  আমাদের মধ্যে স্বাভাবিক জিনিস অস্বাভাবিক ভাবে দেখার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। যেমন স্বাভাবিক ভাবে দেখা একটা সবুজ নারিকেল সবুজ থাকলেই আর যথেষ্ট হচ্ছেনা। তাকে বেগুনি করতে হবে, কখনো লাল, কখনো নীল। কারণ, এটি এখন আর শুধু একটা নারিকেল নয়; একটা কনটেন্ট। আর স্বাভাবিক জিনিসকে কন্টেন্টের নামে অস্বাভাবিক করে তোলার মধ্যে আমাদের এক ধরনের কৌতূহল, বা উচ্ছ্বাস কাজ করে। কিন্তু নারিকেলের গায়ে বেগুনি, লাল কিংবা নীল রং লাগালেই তো তার প্রকৃতি বদলে যায় না। তার ভেতরের জল, তার স্বাভাবিকতা, তার প্রকৃতি প্রদত্ত সত্তা একই থেকে যায়। বদলায় শুধু আমাদের দেখার পদ্ধতি।  আর সমস্যার শুরু সেখানেই। আমরা ক্রমেই স্বাভাবিক জিনিস আর স্বাভাবিকভাবে দেখছি না। প্রকৃতির রূপ আর রং যথেষ্ট মনে হচ্ছেনা আমাদের কাছে, তাই তাকে পরিবর্তন করে কত্রিমতার আশ্রয়ে নতুন রূপে রাঙ্গিয়ে দিচ্ছি। স্বাভাবিক ঘটনা যথেষ্ট উত্তেজক নয়, তাই তাকে নাটকীয় করে তুলছি। সাধারণ জীবন যথেষ্ট আকর্ষণীয় নয়, তাই তার চারপাশে কৃত্রিমতা তৈরি করছি। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উত্তেজকের আসনে বসে আমাদের উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।  কৌতুহল মানুষের স্বাভাবিক প্র...

ইনমেসিওনান্তে

  মানুষ তার জীবদ্দশায় এমন কিছু মানুষের সন্ধান পায় যাদের সাথে হয়ত দেখা গেলো তাদের কোন সাক্ষাতের সম্ভাবনা নেই কিন্ত তারা কোন না কোনভাবে জীবনকে প্রভাবিত করে যায়। তাদের প্রভাব অনুভব করা যায় দূরত্বের আড়াল থেকেও। এমন মানুষদের নিয়ে কিছু না লিখে রাখলে বা তারা যে কত আনন্দের মুহুর্ত আমাদের মানুষজনকে উপহার দিয়ে যাচ্ছে তা লিপিবদ্ধ করে না রাখলে তাদের এই অবদানের কথা অস্বীকার রয়ে যাবে। তাই মাঝে মাঝে acknowledge করতে হয় আর লিখে রাখতে হয় তাদের কথা।   তো আপনের জীবনে খেলার জগৎ একটা বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে। নিজে ক্রিকেট ভালো খেলতো বলে ক্রিকেটের প্রতি তার বিশেষ দূর্বলতা কিন্ত ফুটবল ভালো না খেললেও ফুটবল দেখতে ভালো লাগে তার। আর এই দুই জগতেই কিছু মানুষ আছে যাদের প্রতি তার নিঃশর্ত ভালোবাসা। হ্যাঁ, ভালোবাসাই বোধহয় সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ এখানে ব্যবহার করার জন্য। তাদের মধ্যে দুইজন দুই জায়গাতে নীরবে-নিভৃতে তাদের খেলার দ্বারা, তাদের শান্ত প্রকৃতির স্বভাব দ্বারা নিজেদের নাম এমনভাবে রচনা করে গেছেন যা পাঠ করে শেষ করতে সময়ের আয়ু শতাব্দী পেরিয়ে যাবে। ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকার আর ফুটবলে লিওনেল মেসি হ...

সংগৃহীত চিঠি

 " জাহাজের স্টোকার হয়ে চলেছি বিলেতে। ইন্জিনে কয়লা জোগাতে হবে। বলছি বটে ভাবনা করো না, কিন্ত ভাবনা করছো মনে করে ভালো লাগে। তবু বলে রাখি ইঞ্জিনের তাতে পোড়া আমার অভ্যাস আছে। জানি তুমি এই বলে রাগ করবে যে, কেন পাথেয় দাবি করি নি তোমার কাছ থেকে। একমাত্র কারণ এই যে, আমি যে আর্টিস্ট এ পরিচয়ে তোমার একটু শ্রদ্ধা নেই। এ আমার চির দুঃখের কথা; কিন্ত এজন্য তোমাকে দোষ দেব না। আমি নিশ্চয়ই জানি, একদিন সেই রসের দেশের গুণী লোকেরা আমাকে স্বীকার করে নেবে যাদের স্বীকৃতির খাঁটি মূল্য আছে।  অনেক মূঢ় আমার ছবির অন্যায় প্রশংসা করেছে। আবার অনেক মিথ্যুক করেছে ছলনা। তুমি আমার মন ভোলানোর জন্য কোনদিন কৃত্রিম স্তব করনি। তোমার চরিত্রের অটল সত্য থেকে আমি অপরিমেয় দুঃখ পেয়েছি, তবু সেই সত্যকে দিয়েছি আমি বড় মূল্য। একদিন বিশ্বের কাছে যখন সম্মান পাব, তখন সব চেয়ে সত্য সম্মান তুমিই আমাকে দিবে, তার সঙ্গে হৃদয়ের সুধা মিশিয়ে। যতক্ষণ তোমার বিশ্বাস অসন্ধিগ্ধ সত্যে না পৌঁছাবে ততক্ষণ তুমি অপেক্ষা করবে। এই কথা মনে রেখে আজ দুঃসাধ্যসাধনার পথে চলেছি।  এতক্ষণে জানতে পেরেছ তোমার হারখানি গেছে চুরি। এ হার তুমি বাজ...

Umwelt

  আমরা প্রায়ই বলি আমরা সবাই একই পৃথিবীতে বাস করি। একই আকাশ, একই বাতাস, একই শহর কিংবা একই রাস্তা। কিন্তু একটু থামলে, ভেবে দেখলে বলে ফেলা কথাটার অর্থ আস্তে আস্তে বদলে যায়। আমরা সবাই একই পৃথিবীতে থাকি, কিন্তু সত্যিই কি আমরা একই পৃথিবী দেখি? এই প্রশ্নটাই মাথায় আসে, যখন ‘Umwelt’ শব্দটার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। ‘Umwelt’ আসলে একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ চারপাশের পৃথিবী বা পরিবেষ্টিত জগত। আরও সহজ করে বললে, একটি জীব যেভাবে তার চারপাশের পরিবেশকে উপলব্ধি করে, সেই স্বতন্ত্র উপলব্ধির জগৎই তার ‘Umwelt’। অর্থাৎ, এক জীব থেকে আরেক জীব, এমনকি এক মানুষ থেকে আরেক মানুষে, এই ‘Umwelt’ ভিন্ন হয়ে ওঠে। আর তাই একই বিকেলের আলো কারও কাছে শান্তির, কারও কাছে বিষণ্ণতার। একই বৃষ্টির শব্দ কেউ ভালোবাসে, কেউ এড়িয়ে চলে। একটা ফুল কারও চোখে সৌন্দর্য, কারও কাছে শুধু একটি জৈবিক গঠন, আবার কারও কাছে ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতীক। বস্তুটা এক, কিন্তু তার মানে এক নয়। আমরা প্রত্যেকে আসলে নিজের ভেতরে একটি আলাদা জগৎ বহন করি। একটি নিজস্ব অনুভবের পরিসর, যেখানে আমাদের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা, ভয়, ভালোবাসা সবকিছু মিলে তৈরি করে আমাদের দেখা ও উপ...

বিচ্ছিন্ন আলাপ- ৫

  স্বাধীনতা দিবসে একটা স্বাধীন চিন্তা মাথায় এলো। গ্রামের সবুজ ধানক্ষেতের পাশে বসে, পড়ন্ত বেলার নরম আলো গায়ে মেখে, খালি ও খোলা মাথার কিছু ভাবনা। পাশের ধানগাছের পাতায় জমে থাকা ছোট ছোট শিশিরবিন্দুগুলো যেন হারিয়ে যাওয়া জোনাকির আলোর স্মৃতি ধরে রেখেছে। এক ধরনের শান্ত, নির্মল পরিবেশ, যেখানে স্বাধীনতা অনুভব করা যায়, বলা লাগে না। কিন্তু শহরে ঢুকতেই সেই অনুভূতিটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। দিনের গরমে সচিবালয়ের সামনে দিয়ে আসার সময় চোখে পড়ে সারি সারি পোস্টার। সেখান থেকেই মনে পড়ে, আজ স্বাধীনতা দিবস। মনে করিয়ে দেওয়ার এই পদ্ধতিটা আগে যেমন বিরক্তিকর ছিল, এখনও তেমনই আছে। কারণ পোস্টারগুলো স্বাধীনতার কথা বলে, কিন্তু স্বাধীনতার অনুভূতিটা কোথাও থাকে না বা আদতেই থাকে কি?  আমরা চাইলে অন্য কিছু করতে পারতাম। একটা জার্নি ম্যাপ করা যেত, যেখানে স্বাধীনতার পথচলা দৃশ্যমান হতো। শহরের দেয়ালগুলো কিছুদিনের জন্য স্বাধীনতার রঙে রাঙিয়ে রাখা যেত। অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হতে পারত, যেখানে মানুষ থামত, ভাবত, অনুভব করত। কিন্তু তার বদলে যা হয়, রাস্তাজুড়ে শুভেচ্ছা, ক্ষমতাসীন দলের অমুক তমুকের নামে। স্বা...