" জাহাজের স্টোকার হয়ে চলেছি বিলেতে। ইন্জিনে কয়লা জোগাতে হবে। বলছি বটে ভাবনা করো না, কিন্ত ভাবনা করছো মনে করে ভালো লাগে। তবু বলে রাখি ইঞ্জিনের তাতে পোড়া আমার অভ্যাস আছে। জানি তুমি এই বলে রাগ করবে যে, কেন পাথেয় দাবি করি নি তোমার কাছ থেকে। একমাত্র কারণ এই যে, আমি যে আর্টিস্ট এ পরিচয়ে তোমার একটু শ্রদ্ধা নেই। এ আমার চির দুঃখের কথা; কিন্ত এজন্য তোমাকে দোষ দেব না। আমি নিশ্চয়ই জানি, একদিন সেই রসের দেশের গুণী লোকেরা আমাকে স্বীকার করে নেবে যাদের স্বীকৃতির খাঁটি মূল্য আছে। অনেক মূঢ় আমার ছবির অন্যায় প্রশংসা করেছে। আবার অনেক মিথ্যুক করেছে ছলনা। তুমি আমার মন ভোলানোর জন্য কোনদিন কৃত্রিম স্তব করনি। তোমার চরিত্রের অটল সত্য থেকে আমি অপরিমেয় দুঃখ পেয়েছি, তবু সেই সত্যকে দিয়েছি আমি বড় মূল্য। একদিন বিশ্বের কাছে যখন সম্মান পাব, তখন সব চেয়ে সত্য সম্মান তুমিই আমাকে দিবে, তার সঙ্গে হৃদয়ের সুধা মিশিয়ে। যতক্ষণ তোমার বিশ্বাস অসন্ধিগ্ধ সত্যে না পৌঁছাবে ততক্ষণ তুমি অপেক্ষা করবে। এই কথা মনে রেখে আজ দুঃসাধ্যসাধনার পথে চলেছি। এতক্ষণে জানতে পেরেছ তোমার হারখানি গেছে চুরি। এ হার তুমি বাজ...
আমরা প্রায়ই বলি আমরা সবাই একই পৃথিবীতে বাস করি। একই আকাশ, একই বাতাস, একই শহর কিংবা একই রাস্তা। কিন্তু একটু থামলে, ভেবে দেখলে বলে ফেলা কথাটার অর্থ আস্তে আস্তে বদলে যায়। আমরা সবাই একই পৃথিবীতে থাকি, কিন্তু সত্যিই কি আমরা একই পৃথিবী দেখি? এই প্রশ্নটাই মাথায় আসে, যখন ‘Umwelt’ শব্দটার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। ‘Umwelt’ আসলে একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ চারপাশের পৃথিবী বা পরিবেষ্টিত জগত। আরও সহজ করে বললে, একটি জীব যেভাবে তার চারপাশের পরিবেশকে উপলব্ধি করে, সেই স্বতন্ত্র উপলব্ধির জগৎই তার ‘Umwelt’। অর্থাৎ, এক জীব থেকে আরেক জীব, এমনকি এক মানুষ থেকে আরেক মানুষে, এই ‘Umwelt’ ভিন্ন হয়ে ওঠে। আর তাই একই বিকেলের আলো কারও কাছে শান্তির, কারও কাছে বিষণ্ণতার। একই বৃষ্টির শব্দ কেউ ভালোবাসে, কেউ এড়িয়ে চলে। একটা ফুল কারও চোখে সৌন্দর্য, কারও কাছে শুধু একটি জৈবিক গঠন, আবার কারও কাছে ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতীক। বস্তুটা এক, কিন্তু তার মানে এক নয়। আমরা প্রত্যেকে আসলে নিজের ভেতরে একটি আলাদা জগৎ বহন করি। একটি নিজস্ব অনুভবের পরিসর, যেখানে আমাদের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা, ভয়, ভালোবাসা সবকিছু মিলে তৈরি করে আমাদের দেখা ও উপ...