Skip to main content

Posts

Umwelt

  আমরা প্রায়ই বলি আমরা সবাই একই পৃথিবীতে বাস করি। একই আকাশ, একই বাতাস, একই শহর কিংবা একই রাস্তা। কিন্তু একটু থামলে, ভেবে দেখলে বলে ফেলা কথাটার অর্থ আস্তে আস্তে বদলে যায়। আমরা সবাই একই পৃথিবীতে থাকি, কিন্তু সত্যিই কি আমরা একই পৃথিবী দেখি? এই প্রশ্নটাই মাথায় আসে, যখন ‘Umwelt’ শব্দটার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। ‘Umwelt’ আসলে একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ চারপাশের পৃথিবী বা পরিবেষ্টিত জগত। আরও সহজ করে বললে, একটি জীব যেভাবে তার চারপাশের পরিবেশকে উপলব্ধি করে, সেই স্বতন্ত্র উপলব্ধির জগৎই তার ‘Umwelt’। অর্থাৎ, এক জীব থেকে আরেক জীব, এমনকি এক মানুষ থেকে আরেক মানুষে, এই ‘Umwelt’ ভিন্ন হয়ে ওঠে। আর তাই একই বিকেলের আলো কারও কাছে শান্তির, কারও কাছে বিষণ্ণতার। একই বৃষ্টির শব্দ কেউ ভালোবাসে, কেউ এড়িয়ে চলে। একটা ফুল কারও চোখে সৌন্দর্য, কারও কাছে শুধু একটি জৈবিক গঠন, আবার কারও কাছে ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতীক। বস্তুটা এক, কিন্তু তার মানে এক নয়। আমরা প্রত্যেকে আসলে নিজের ভেতরে একটি আলাদা জগৎ বহন করি। একটি নিজস্ব অনুভবের পরিসর, যেখানে আমাদের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা, ভয়, ভালোবাসা সবকিছু মিলে তৈরি করে আমাদের দেখা ও উপ...
Recent posts

বিচ্ছিন্ন আলাপ- ৫

  স্বাধীনতা দিবসে একটা স্বাধীন চিন্তা মাথায় এলো। গ্রামের সবুজ ধানক্ষেতের পাশে বসে, পড়ন্ত বেলার নরম আলো গায়ে মেখে, খালি ও খোলা মাথার কিছু ভাবনা। পাশের ধানগাছের পাতায় জমে থাকা ছোট ছোট শিশিরবিন্দুগুলো যেন হারিয়ে যাওয়া জোনাকির আলোর স্মৃতি ধরে রেখেছে। এক ধরনের শান্ত, নির্মল পরিবেশ, যেখানে স্বাধীনতা অনুভব করা যায়, বলা লাগে না। কিন্তু শহরে ঢুকতেই সেই অনুভূতিটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। দিনের গরমে সচিবালয়ের সামনে দিয়ে আসার সময় চোখে পড়ে সারি সারি পোস্টার। সেখান থেকেই মনে পড়ে, আজ স্বাধীনতা দিবস। মনে করিয়ে দেওয়ার এই পদ্ধতিটা আগে যেমন বিরক্তিকর ছিল, এখনও তেমনই আছে। কারণ পোস্টারগুলো স্বাধীনতার কথা বলে, কিন্তু স্বাধীনতার অনুভূতিটা কোথাও থাকে না বা আদতেই থাকে কি?  আমরা চাইলে অন্য কিছু করতে পারতাম। একটা জার্নি ম্যাপ করা যেত, যেখানে স্বাধীনতার পথচলা দৃশ্যমান হতো। শহরের দেয়ালগুলো কিছুদিনের জন্য স্বাধীনতার রঙে রাঙিয়ে রাখা যেত। অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হতে পারত, যেখানে মানুষ থামত, ভাবত, অনুভব করত। কিন্তু তার বদলে যা হয়, রাস্তাজুড়ে শুভেচ্ছা, ক্ষমতাসীন দলের অমুক তমুকের নামে। স্বা...

A Ruined Rose

  My days were fading away Like a rose forgotten, Between the warm pages of a book. Or  a rose lying silently  Upon the desk of a desolate soul, Slowly surrendering  To the quiet heat of the morning sun. Slowly it withered,  Losing fragrance, color and grace Until nothing remained  But the faint memory of a rose. Sometimes a life, too, Disappears in such silence.

Sarvam Maya — সবকিছুই মায়া

  কিছু সম্পর্ক প্রণয় বা পরিণয়ে পরিণত হওয়ার জন্য তৈরি হয় না, তবু তারা আমাদের জীবনে এসে কিছুটা সময় থেকে গিয়ে অনেকটা সময়ের রেশ রেখে যায়। মায়া থাকে সাথে থাকে টান। সবসময় সরল জিনিসই দেখতে ভালো লাগে। যেগুলো খুব জটিল কোনো বক্তব্য দেয় না, কিন্তু দেখার পর মনে একটু শান্তি রেখে যায়। থাকে একটু ভালো লাগা বা একটু গুড ভাইব। এই কারণেই হয়তো Sarvam Maya সিনেমাটাও আমার ভালো লেগেছে। তাছাড়া প্রেমাম দেখার পর থেকেই নিভিন পাউলি আমার পছন্দের অভিনেতাদের একজন। পরে তার করা ওম শান্তি ওসানা, ব্যাঙ্গালোর ডেইজ, নীরাম, বা এইরকম আরও কিছু মুভি আছে যা ভালো লেগেছে। তার অভিনয়ের মধ্যে একটা স্বাভাবিকতা আছে ; অতিরঞ্জন নেই, খুব সাধারণ অথচ বিশ্বাসযোগ্য। “Sarvam Maya” সংস্কৃত এই শব্দগুচ্ছের অর্থ, সবকিছুই মায়া । ভারতীয় দর্শনে “মায়া” শব্দটা শুধু ভ্রম বা বিভ্রম বোঝায় না। বরং এটি এমন এক বাস্তবতার ধারণা, যাকে আমরা সত্যি বলে ধরে নিই, কিন্তু সময়ের সাথে বুঝতে পারি আসলে তার অনেকটাই ছিল আমাদের অনুভূতি, আশা আর কল্পনার তৈরি। ছোটবেলার একটি ঘটনার পর ব্রাহ্মণ প্রভেন্দু ধীরে ধীরে নাস্তিক হয়ে যায়। বিশ্বাসের জায়গাটা তার কাছে শূন্য মনে হ...

আপনের দিনগুলি

  শীত শেষ। দিন দশেকের কাপুনিতে শীত যেন তার সর্বস্ব দিয়ে গেছে। এখন যা আছে বা যা অনুভূত হচ্ছে, তা হলো শীতকে জিইয়ে রাখার এক অদ্ভুত তাড়না। একসময় Winter is coming বললে একটা গম্ভীর আবহ তৈরি হতো। এখন গরমকাল আসার কথাতেই মানুষের হৃদয় কেঁপে উঠে। যেমনটা আজকাল প্রায়ই কেঁপে উঠে, ঘুমের মধ্যে কিংবা জেগে থাকতেই হঠাৎ করে বিল্ডিং কেঁপে উঠে; ইদানীং ভূমিকম্প হচ্ছে খুব।  গরমকাল মানেই এখন প্রচণ্ড গরম।  উত্তপ্ত চুলার ওপর ভাত যেমন ফটফট শব্দে ফুটতে থাকে, গরমের দিনে শরীরটাও তেমনই সিদ্ধ হতে থাকে। পার্থক্য শুধু এই, এখানে শব্দ শোনা যায় না। সবকিছু ভেতরে ভেতরে ঘুমরে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাস চলে এলো। বারো মাসের এক বছরে এই মাসটা আপনের বরাবরের পছন্দের। প্রথমত, মাসটা ছোট। দ্বিতীয়ত, এটা ভালোবাসার মাস, যুগলবন্দী হবার মাস, সরস্বতী পূজার মাস, ভাষা শহীদের মাস, বইমেলার মাস। আর তরীর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মাসও বটে। কিন্তু এই বছরটা কেমন যেন ব্যতিক্রম। শুভ পঞ্চমীর তিথি জানুয়ারিতে পড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি আর সরস্বতী পূজার মাস হলো না। বইমেলাও হচ্ছে না। আরও অনেক কিছুই যেন হলো না। এই মাসটা ক্রমে ‘না-হবার মাস’ হয়ে উঠছে...

আপনের দিনগুলি

  (তৃতীয় পর্ব) রাত অনেক, প্রচণ্ড শীত বাইরে। কনকনে শীতল হাওয়া বইছে। ঘুম আসছে না আপনের চোখে। বাসার নীচে, কাছাকাছি কোথাও হতে ট্রাক থেকে ইট নামানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। এই শহর কখনো নীরব হয়না, রাতেও না। এই শহরের দেওয়ালগুলো কখনও নীরব শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। বিরামহীন শব্দের ভারে শ্রান্ত তাদের দাঁড়িয়ে থাকা। মাঝখানে ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো সে। সেখানেও শীত ছিলো তবে শহরের মতো কোলাহল ছিলো না। আর কোলাহল এর অভাবে সেখানে শীতের মাত্রা আরও ভারী, নিঃশব্দের মাত্রা আরও প্রকট। টিনের চালে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ কানে আসত। কখনও দূর থেকে শিয়ালের ডাক, আর সেই ডাকে হঠাত জেগে উঠা গৃহে পালিত হাঁসের ভয় পাওয়া আর্তনাদ। ঘুম জড়িয়ে আসত চোখে।  আজ আপনের চোখে ঘুম নেই। তরীর কথা মনে পড়ছে না তো? তরীর কথা মনে না পড়লেও, স্মৃতিগুলা মনে হয় এই শীতের রাতেও লেপের উষ্ণতা নিয়ে ভর করতে চায় তার উপর। বিছানা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গিয়ে গ্রীলের বাইরে চোখ রাখল আপন।  এভাবেই দিনের সাথে সাথে রাত কেটে যাচ্ছে তার। কিছুটা ঘোরের মধ্যে, কিছুটা ঘোরের বাইরে। বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। ম...

ভ্রমণ বৃত্তান্ত

  পাহাড়, নীরবতা আর হারিয়ে যাওয়া শব্দের গল্প দুই পাশে বেতের ঘর আর মাঝখানে সরু হয়ে পাহাড়ের গা বেয়ে ওঠানামা করা আঁকাবাঁকা পথ। এই দৃশ্য দেখতে দেখতে ঘুমু ঘুমু চোখে সাজেকের পথে যাত্রা। চলতি পথের মাঝখানে ঘর থেকে বেরিয়ে ছোট ছোট ছেলে-পুলে মিলে হাত নেড়ে স্বাগতম জানাচ্ছে তাদের। এটাই চিরায়ত সাজেকের দিকে যাত্রাকালের চিত্র। সেই আদিমতা এখন অনেকটাই বিলুপ্ত। পাহাড়ের বুক সমতল করে গৃহপালিত জীবনের স্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে। তবুও জীবনকে সহজ করার প্রক্রিয়াটা এখানে আজও সহজ নয়। পাহাড়ের উপর জীবন এমনিতেই কঠিন। তার ওপর সশস্ত্র বাহিনীর দাপটে জায়গায় জায়গায় আটকে থাকে স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ। দুই-একটি পাকা দালানের নিচে দেখা যায় সেই জীর্ণশীর্ণ বেতের ঘর। ভেতরে চোখ রাখলে বোঝা যায় অভাবে না স্বভাব বসত কারণেই এইরকম শির্ণতা। যেটাই হোক, সরঞ্জাম বলতে হাতে গোনা কয়েকটি জিনিস আর বিশাল প্রকৃতির সান্নিধ্যে এই স্বল্পতা বোধহয় এখানকার মানুষদের কাছে কিছুই নয়। তবুও চোখে পড়ে ঐতিহ্যের রেশ। গামছা আর ব্লাউজ কিংবা টপ পরিহিত পাহাড়ি নারীদের শরীরজুড়ে ঐতিহ্যের স্মৃতি এখনও বেঁচে আছে। ভিড়ের মাঝেও শান্তির খোঁজ ছুটির দিন...