চাপা পড়ে থাকা নিঃশব্দের মাঝেও এক ধরনের শব্দ থাকে। যেটা কানে নয়, মনে লাগে। মাঝে মাঝে সেই শব্দ শোনার ইচ্ছে জাগে প্রবলভাবে। শহরের ভেতর দাঁড়িয়ে যখন চারপাশে কেবল হর্ন, চেঁচামেচি আর মানুষে-মানুষে মিশে যাওয়া কথার গোলমাল কানে আসে, তখনই মনে হয় কলরবে কলরবে আছে অনেক পার্থক্য।
লোকালয়ের কলরব একরকম। সেখানে শব্দ মানেই ব্যস্ততা, তাড়াহুড়া, প্রতিযোগিতা। সবাই কিছু না কিছু পেতে ছুটছে, অথচ সেই পাওয়াটা আসলে কী তা কেউ স্পষ্ট করে জানে না। মানুষের এই মিশ্রিত শব্দের ভেতরে শান্তি নেই; আছে কেবল একরকম কোলাহল, যা ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলে বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটা ইন্দ্রিয়কে।
অন্যদিকে আছে আরেক রকম কলরব, যেটা নিরালায় শোনা যায়। পাখিদের মিছিলে ভেসে আসা ডাক, বাতাসে পাতার দোল, গাছের আড়ালে থেকে ভেসে আসা লুকিয়ে থাকা চড়ুই এর শীষ। এই কলরব গোলমাল নয়, বরং একধরনের ছন্দ। তীব্র গরমের দিনে হাপিয়ে পড়া মন যেন সেই সুরেই সামান্য স্বস্তি খুঁজে পায়।
দুই কলরবের এই পার্থক্য আসলে আমাদের জীবনবোধের প্রতিচ্ছবি। আমরা প্রতিদিন এমন এক ব্যস্ততার মধ্যে বাঁচি, যেখানে শব্দই আমাদের সঙ্গী, কিন্তু সেই শব্দের ভেতরে কোনো সুর থাকে না। অথচ প্রকৃতি তার নিজের মতো করে প্রতিদিন একেকটা সুর তোলে, যা আমরা খুব কমই শুনতে পাই, কারণ আমাদের কান তখন শহুরে গোলমালে আটকে থাকে।
মানুষ যদি একটু থামতে পারতো, যদি এক মুহূর্তের জন্যও নিঃশব্দতার ভেতর কান পাততো! তাহলে হয়তো বুঝতে পারতো, প্রকৃত কলরব মানে শুধু শব্দ নয়; মানে জীবনের চলন, শান্তির স্রোত, আর নিঃশব্দতার ভেতর লুকিয়ে থাকা এক স্নিগ্ধ প্রশান্তি।
এই আর কি।
Comments
Post a Comment