Skip to main content

শেষ কথা

 : আপনি আমার কষ্টটা বুঝতে পারেন নি; 

আধো মুখে বলে উঠল কাদম্বিনী,

আমি তাকে ডাকি মেঘমালা বলে; 

মনের আকাশে আমার শুধু তার উড়াউড়ি।

ছায়ার মুখ ডাকা শরীরে কি মায়া, 

দূর নিকটের সায়ারে পড়ছে তার পুলকিত ছায়া।


: বুঝতে পেরেছি বলেই সরে এসেছি


উদাস ভঙ্গিতে বলে ঊঠলাম আমি।

দুটি সাদা বক ডানা ঝাপটে উড়ে গেলো দুদিকে

মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছা করে, 

তারা আবার এক হবে বা তাদের কি আবার দেখা হবে? 


:আচ্ছা মনে রাখবেন আমায়?


মুখটা বের করে জানতে চাইলে তুমি।

আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তোমার খুঁজে, 

ফিরে আসতে একটু সময় লাগল, 

উত্তরটা দিতে পারিনি তোমায়।

কিই বা বলতাম তোমায় বলো? 

মনে সে যে রাখার তোমাকে আমি রেখে দিয়েছি,

মুখ দিয়ে তাই আর বের করে আনতে পারিনি।

প্রসঙ্গ পালটে বলে উঠলাম...


:সুন্দর না এই মুহূর্তটা?

 

বিচ্ছেদের মুহুর্ত এত সুন্দর হয় বা হতে পারে

কোথায় পড়েছ বা দেখেছো? 


:চিন্তা করছি এই মুহূর্তটা মনে রেখে দিবো।


তোমার হাতের স্পর্শ আমি সেদিন পেয়েছিলাম;

পেয়েছিলাম তোমার ঠোঁটের উষ্ণতা।

সেইবেলা আকাশে চাঁদ ছিলো,

বাতাসে শিউলি ঝরা গন্ধ ছিলো, 

তোমার যাবার তাড়া ছিলো।

তু মি হুট করে উঠে দাঁড়ালে,

পিছু না ফিরে চলে গেলে, আর…..

তুমি চলে গেলে বলে গেলে "ভালো থেকো"।

Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?

নাম না জানা কোন এক গল্প।

১৪ তারিখ, শুক্রবার। ছুটির দিনে কিছুটা ফাঁকা শহরে একা একা হাঁটছে আপন। শাখারি বাজারের সরু গলি দিয়ে যদিও হেঁটে যাওয়া খুব সহজ কাজ না তারপরও ছুটির দিন আর রোজার দিন হওয়াতে তার সাথে দেশের চলমান অস্থির পরিবেশে কেউ সুস্থিরভাবে বাইরে বের না হবার কারণেই হয়ত লোকজন এখানে এখনও কম।এই পরিস্থিতিতে হাঁটতে হাঁটতে একটা শাখা আর সিদুরের দোকানের সামনে দাঁড়াল আপন। ছোট্ট একটা দোকান কিন্তু সাজানো গুছানো আর সেখানে পরিপাটি সেজে বিশাল দাড়ির সমাহার নিয়ে দোকানের মালিক বসে আছে। লম্বা দাড়ির দিকে চোখ বুলাতে মনে হলো নানান রঙের বাহারে বাহারিত হইয়া আছে তার লম্বা দাড়ি। ঐতিহ্য কে ধরে আর ধারণ করে রাখার চেষ্টা, রঙের ঐতিহ্য, হোলির রং। কিন্তু প্রশ্ন হলো অনেক চাওয়ার পরেও কেউ কিছু ধরে রাখতে পারছে কি? আস্তে আস্তে হাত ফসকে কত কিছু বেরিয়ে যাচ্ছে সেই খেঁয়াল আছেই বা কজনের?  সে যাই হোক এখানে না আসলে আজকে যে হলি ছিলো তা বুঝত না সে।  এখনও যে এই শহরে একটু রং মৃদু বাতাসে উড়ে বেড়ায় তা এখানে না আসলে ইনস্টার রিল দেখে বুঝে নিতে হত। চারদিকে সারা সকাল আর দুপুরের ব্যস্ত রং ক্লান্ত হয়ে ঝিমুচ্ছে এখানে সেখানে রাস্তায় বা রাস্ত...