Skip to main content

কথোপোকথন ২

 : আপনি ঠিক আছেন তো?

বাসের জানালার পাশে বসা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল শুভ।
মেয়েটি হ্যা না কিছু বলল না। এখন করো সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করছে না মেয়েটির। পাশে বসা ছেলেটিকে বেশ নাছোড়বান্দা মনে হচ্ছে। এইসব ছেলেদের নিয়ে এক ঝামেলা। মেয়েদের দেখলেই গায়ে এসে পড়ে কথা বলতে। 
: আমি ঠিক আছি। বিরক্তি চেপে বলল নিতা। 
: কাদছেন কেন? কোন সমস্যা?
: সমস্যা নাই। খুশিতে কান্দি। 
শুভ নীতুর কথায় বেশ মজা পেল। শুভ আগে মেয়েদের সাথে কথা বলত না। কিন্তু কেউ কাদতে দেখলে বসে বসে দেখে চুপ করে থাকা যায় না।
: খুশিতে কেউ কাদে না। হাসে।
: আমি কাদি।
: আপনি ভুল করছেন।
: আচ্ছা। তাতে আপনার কি?
: আমার কিছুই না। তবে কারো কান্না দেখতে পারি না।
: দেখতে কে বলছে। অন্য কোথাও গিয়ে বসুন। বাসে পর্যাপ্ত সিট ফাঁকা আছে।
শুভ গেলো না। মেয়েটিকে একা ছেড়ে তার যেতে ইচ্ছা করছে না। তাছাড়া মেয়েটির শরীর থেকে শিউলী ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। ভালো লাগছে শুভর।
: কোথায় যাবেন আপনি?
: তাতে আপনার দরকার।
: বলুন না। রেগে যাচ্ছেন কেন?
: আমার কথা বলতে ইচ্ছা করছে না তাই।
: কি করতে ইচ্ছা করছে? কাদতে?
: জ্বী।
: আমি কাদাতে আসিনি। হাসাতে এসেছি।
: কে এই দায়িত্ব দিলো আপনাকে?
: কিছু দায়িত্ব দিতে হয় না, নিয়ে নিতে হয়।
: লেকচার দিয়েন না।
: কান্না করিয়েন না। বাই দ্যা ওয়ে আমি শুভ।
: ত চুপচাপ বসে থাকুন না। শুভ হয়ে।
: আপনার নামটা জানা হলো না।
: নাম জেনে কি হবে?
: রোজ একবার করে জপব।
: কেন?
: আপনি সুন্দর। তাই সুন্দরের পূজা করতে হয়।
: মেয়েটি মুখ ঘুরিয়ে হুট করে হেসে দিলো। ছেলেটারে তার যথেস্ট তারছিরা মনে হল। 
: আপনি কি ফ্লার্ট করছেন।
: কই? নাম জানার চেষ্টা করে যাচ্ছি শুধু।
: আচ্ছা বুঝলাম। আমি নীতু।
 নাইস টু মিট ইয়ু নীতু বলে হাত বাড়িয়ে দিল শুভ। নীতু ফেরাতে পারল না। হাতে হাত মিলল। নীতুর কিছু আগের কান্নার কথা কেমন ঝাপসা হয়ে গেল। এই ছেলে কেমন করে মনটা কে শান্ত করে দিল। শুভ নামের ছেলেগুলা কি আসলেই এমন হয়? সব অশুভকে কেমন করে শুভ বানিয়ে দেয়। নাহ ভালোই লাগছে তার এখন। 

............................

- চলুন, যাই। নেমে পড়ি।

নিতু এটা বলেই উঠে পড়ল। শুভ কিছু বুঝতে পারল না। সে বেকুব হয়ে তাকাল নিতুর দিকে।

- কই যাবো? 

- কান্নার কারণ জানতে।

- কই গেলে জানতে পাওয়া যাবে।

- নিদৃষ্ট জায়গা নাই। তবে যে জায়গাটা আমার পছন্দ হবে সে জায়গাতেই জানতে পারবেন।

- চলুন তাইলে খুঁজি সেই জায়গাটা।

তারা বাস থেকে নেমে পড়ল। শুভর গায়ে নীল টিশার্ট আর নিতুর নীল পারের শাড়ি। তারা রিক্সা নিয়ে ফাঁকা রাস্তা ধরে খুঁজতে চলল।

- আমার প্রেমিক হুট করে সেদিন বলে দিলো, আর টানতে পারছে না। এক বছরেই নাকি ক্লান্তি চলে আসছে তার। আমাকে তার পছন্দ না।

- সেদিন থেকেই কেদে যাচ্ছেন তাইলে?

- দূর! না। আজ দেখা করতে গেছিলাম। ভেবেছিলাম ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু..

- আবার কেদে দিবেন নাকি?

- এখন কাদতে ইচ্ছা করছে না।

- আচ্ছা। এটা কি আপনার প্রথম প্রেম ছিলো?

- প্রথম এবং শেষ?

- হা হা। কেমনে কি? এক ধাক্কাতেই জীবন শেষ?

- জীবন শেষ কই? থাকব নিজের মত করে। 

- কেউ আসতে চাইলে?

- কেউ আসবে না। আর আসলেও আমি নাই। Don't trust guys anymore. All guys are the same.

- আমার মনে হয় it would be cliche to say that all guys are not same, but it is true that all guys are not same. আপনি কষ্টে আছেন। সময় দেন ঠিক হয়ে যাবে সব।

- না। সময় কিছু ঠিক করে না।

- scars could be there but things heal.

- আপনার মাথা। 

- জ্বী। মাথা থেকেই মন হয়ে আসে সব। তবে সবসময় আসে না। ভালো মানুষদের সংস্পর্শে আসলে আসে মাঝে মাঝে। 

- আমারে কি দেইখা মনে হইল আমি ভালো মানুষ?!

- এই যে। এই যুগে এসেও আপনি কাদেন, নীল পারের শাড়ি পরে প্রেম ঠিক করার জন্য ছুটে যান। আমার মনে হয় এইগুলা ভালো প্রেমিকারাই করে আরকি তাদের প্রেমিক এর জন্য। আর ভালো প্রেমিকারা ভালো মানুষ হয় উপন্যাসে পড়ছি।কিন্তু তারা সবসময় তাদের প্রথম প্রেম ভুল মানুষের সাথে করে কিন্তু পরে ঠিক হইয়া যায় সব। 

: এটাও পড়েছেন উপন্যাসে। 

: না এটা শুনেছি গুণীজনদের কাছ থেকে। 

: তো আপনি প্রেম করেননি বা পড়েননি। 

: প্রেমে পড়েছি কিন্তু করা হইয়া উঠেনি। 

: কারন কি?

: সে অনেক। সঠিক সময়ে সঠিক জিনিস সঠিক ভাবে ক্লিক না করলে মন সায় দিতে চায় না। আর এজন্যই মনে হয়। 

: আমার বেলায় হয়ত এটাই হয়ে ছিলো তবে। সঠিক ভাবে ক্লিক করেনি কিছু। শুধুই আমি ছুটে গেছি তার পিছু পিছু। 

: কবিতা হয়ে গেলো কিন্তু। 

: প্রেমে পড়লে মানুষ কবি হয়ে যায়। তো আপনি নিজেও একজন কবি। বেশ আর ভূষণে কবি মনে না হলেও ভাবে আপনাকে তাই মনে হয়। 

: ধন্যবাদ খেয়াল দেবার জন্য। তবে বেশী বেশী খেয়াল দিয়েন না আবার। 

: দিলে কি হবে? 

: কি হবে আবার। মানুষ যে জায়গায় তার খেয়াল বাড়ায় সে জায়গায় তার মন নিবিষ্ট হয় আর সময় অতিবাহিত হয়। আর অতিবাহিত কালের ধারায় প্রেম বাহিত হয়। 


ফিক করে হেসে দিলো নিতু। এই শহরের সকল কোলাহল চাপা পড়ে যাওয়া সেই হাসির শব্দে শুভর কান আরাম পেল। আজকে সে বাহির হতে চায়নি কিন্তু নিয়তির টান থাকলে কত কিছুই ঘটে যায় আর পরিচয় হয়ে যায় কত অজানার সাথে। নিতুর সাথে তবে এই পরিচয় কি তবে নিয়তির সেই টানেই? কি জানি। 


: ওসব হবে টবে না। নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। 

: এই কথা শুনে একটু নিরাশ হবার কথা থাকলেও হলাম না। 


সন্ধ্যাটা হঠাৎ করে সুন্দর হয়ে যাচ্ছে নিতুর কাছে। মেঘ কেটে গেছে, শ্রবণের পূর্ণিমা আজ একটু বেশিই আলো ঝড়াচ্ছে। কে বলতে পারে কোথায় কি হয়ে যাচ্ছে। শুভ্র চাঁদের আলোয় ঠিকই নিতুর হাসির ঝলক ধরে ফেলেছে শুভ। তারা এগিয়ে গেলো উষ্ণতার স্বাদ নিতে মানে চা খেতে। 



(অসমাপ্ত)



Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?

নাম না জানা কোন এক গল্প।

১৪ তারিখ, শুক্রবার। ছুটির দিনে কিছুটা ফাঁকা শহরে একা একা হাঁটছে আপন। শাখারি বাজারের সরু গলি দিয়ে যদিও হেঁটে যাওয়া খুব সহজ কাজ না তারপরও ছুটির দিন আর রোজার দিন হওয়াতে তার সাথে দেশের চলমান অস্থির পরিবেশে কেউ সুস্থিরভাবে বাইরে বের না হবার কারণেই হয়ত লোকজন এখানে এখনও কম।এই পরিস্থিতিতে হাঁটতে হাঁটতে একটা শাখা আর সিদুরের দোকানের সামনে দাঁড়াল আপন। ছোট্ট একটা দোকান কিন্তু সাজানো গুছানো আর সেখানে পরিপাটি সেজে বিশাল দাড়ির সমাহার নিয়ে দোকানের মালিক বসে আছে। লম্বা দাড়ির দিকে চোখ বুলাতে মনে হলো নানান রঙের বাহারে বাহারিত হইয়া আছে তার লম্বা দাড়ি। ঐতিহ্য কে ধরে আর ধারণ করে রাখার চেষ্টা, রঙের ঐতিহ্য, হোলির রং। কিন্তু প্রশ্ন হলো অনেক চাওয়ার পরেও কেউ কিছু ধরে রাখতে পারছে কি? আস্তে আস্তে হাত ফসকে কত কিছু বেরিয়ে যাচ্ছে সেই খেঁয়াল আছেই বা কজনের?  সে যাই হোক এখানে না আসলে আজকে যে হলি ছিলো তা বুঝত না সে।  এখনও যে এই শহরে একটু রং মৃদু বাতাসে উড়ে বেড়ায় তা এখানে না আসলে ইনস্টার রিল দেখে বুঝে নিতে হত। চারদিকে সারা সকাল আর দুপুরের ব্যস্ত রং ক্লান্ত হয়ে ঝিমুচ্ছে এখানে সেখানে রাস্তায় বা রাস্ত...