: হ্যালো।
: হ্যালো।
: কেমন আছেন?
: ভালো। আপনি?
: ভালো লাগে না কিছু।
: আমিও তো আপনার ভালো লাগার জায়গা না।
: ব্যাপারটা আসলে এইরকম না। আমি চেয়েছিলাম আপনার সাথে আমার ভালো একটা সম্পর্ক থাকুক। কিন্ত আপনি দূরে চলে গেলেন।
: আমি কাছে থাকলে ব্যাপারটা আপনার জন্য প্রবলমেটিক হতো।
: আপনার জন্য হতো না?
: হয়ত হতো কিন্ত সেটা আমাদের ভালো সম্পর্কের মধ্যে অন্তরায় হতো না।
: কিভাবে? আমি তো জানি সমস্যায় আপনি পড়তেন।
: দূরে কিন্ত আমি গেছি আর আপনি অনেকদিন পরও আমাকে কাছে রাখার চিন্তা করছেন।
: আমাকে ভুলে গেছেন?
: নাহ। ভুলা আপনাকে সম্ভব না। কিন্ত মাঝে মাঝে সময়ের প্রয়োজনে অনেক কঠিন জিনিস সহজ করে ভাবতে হয়, নিতেও হয়। আপনি আমার কাছে দূরে থাকবেন এই কঠিন জিনিস কঠিন হলেও আমি সহজ বানানোর চেষ্টায় আছি।
: কঠিন কথা। আমাকে আর ভালোবাসেন না?
: এতদিন পর এটা জেনে কি করবেন?
: বলেন না।
: বলব না।
: কেনো?
: এমনি। এই প্রশ্নের উত্তর অনেক দামী আর আমার কাছে মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তরের দাম আপনি আগে একবার দেননি। মজার ছলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
: মোটেও না। আমি আপনার ইমোশান আর ফিলিংসের সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি।
: সেটা হয়ত আমার বুঝার ভুল। আমি অনেক কিছুই বুঝিনা।
: কম বুঝাই ভালো।
: সেটাই করতেছি। বেশী জিনিস কম বুঝার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাই আজকে আপনার সাথে কথা বলার পর বুঝার চেষ্টা করবো না যে এতদিন পর ঠিক কি কারণে আপনি আমাকে স্মরণ করেছেন।
x
চারপাশটা হঠাৎ কেমন চুপচাপ মনে হচ্ছে। ডরমেটরির বারান্দায় বসে আছে সে। বাইরে কিছুটা ঠান্ডার আভাস। মনটাও কেমন ঠান্ডা ঠান্ডা লাগে আজকাল। অনেকদিন পর আপনের সাথে তার কথা। ভুলে যাবার আয়োজন করেছিলো সে কিন্ত ভালো লাগার মুহুর্ত যতই চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেনো সেগুলা চাপা রাখা যায়না। আপনের সাথে তার কয়েকদিনের দেখা আর কথা অনেকদিনের। এই অল্প কিছুদিনের দেখাতেই আপন একদম আপন হয়ে গিয়েছিলো। প্রথম দিন কেমন নার্ভাস নার্ভাস ছিলো সে। ঠিকঠাক কথা বা তাকাতে পারছিলো না সে তরীর দিকে। চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছিলো না, কথাগুলো ঠিকঠাক গুছাতেও পারছিলো না। কেমন অগুছালো ছিলো সে। তরী নিজেও নার্ভাস ছিলো সেদিন কিন্ত আপনের নার্ভাসনেস দেখে তার নিজেরটা অনেকাংশে চাপা পড়ে গিয়েছিলো। এই দেখাটা অবশ্য তরী নিজের আয়োজনেই করেছে। স্থান, কাল নিজ থেকেই ঠিক করে দিয়েছে। মূলত দেখা করার উদ্দেশ্য বলতে আপন তাকে সাহায্য করেছিলো কিন্ত বিনিময়ে তাকে তেমন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়নি। তাছাড়া তরী শুনেছে আপন তার বাবাকে হারিয়েছে, একটা সহানুভূতি জাগানোর তাড়না আপনা আপনি চলে এসেছিলো।
কিন্ত যতই দেখা হয়েছে আপন ততই স্বাভাবিক হয়েছে ততই তরী স্বাভাবিক হয়েছে, আপনকে তার কাছের মনে হয়েছে। এগুলা তো কখনো হয়নি বলা। উল্টা আপনকে সে অপমান করেছে, দূরে রেখেছে। কিন্ত দূরে কি সে রাখতে পেরেছে তাকে।
শেষ যেদিন কথা হয়েছিলো তরী চেয়েছিলো আপনের সাথে দেখা হোক, শেষটা সুন্দর হোক। আপনের জন্য ইলিশ রান্না করেছিলো। আপন চেয়েছিলো একসাথে বসে দুপুরের খাবার খেতে কিন্ত সে সেদিন সাথে সাথে নিষেধ করে দিয়েছিলো। আপন করুণা চায় না। তরীও আপনকে কখনও করুণা দেখায় নি বা দেখানোর চেষ্টা করেনি বরং একটু একটু করে তাকে অনেক টুকু ভালোবেসে ফেলেছিলো।
আপন কেন বুঝে উঠতে পারেনি তাকে। এই অভিমান তার মনে থেকে যাবে। তরী জানে আপন তার জীবনে আপন হয়েও দূরে থেকে যাবে। টুপ করে চোখ বেয়ে এক ফোঁটা অশ্রু ঝড়ে পড়ার শব্দ হলো। "তোমায় আমায় মিলেছি প্রিয়, শুধু চোখের জলটুকু ব্যবধান হিসেবে রইল ।" আপনের উপহার দেওয়া চিতা-বহ্নিমান এর হাইলাইট করে দেওয়া লাইনটা মনে আসল তার। তবে আপনও জানে এই দূরত্ব কোনদিন ঘুচবে না, এই চিতা জ্বলে যাবে অন্তরে, কোথাও কোন এক কোণে।
সবসময় চোখের আড়াল হলেও কিছু মানুষকে মনের আড়ালে রাখা যায়না কিন্ত একটা আড়াল রাখতে হয়। আপন চোখের আড়ালে থাকবে কিন্ত মনের মধ্যে তার জন্য কোন আড়াল নাই আর। কিছু না বলে অফলাইনে চলে আসলো তরী।
Comments
Post a Comment