Skip to main content

নাম না জানা কোন এক গল্প - ০৪



: আকাশ খুলে বসে আছি তাও কেনো দেখছো না।

: দেখছি বলেই ফ্রেমে রেখে দিয়েছি। 

: ফ্রেমে রেখেছো, মনে তো আর না।

: রেখেছি।

: কই দেখি দেখাও। 

: কিভাবে দেখাবো?

: অনন্ত জলিল যেভাবে দেখাইছে। শিখে নিতে পারো নাই?

: শিখেছি তবে মনে নাই। 

: পচা স্টুডেন্ট তুমি। 

: আমি পচাই, ডাল স্টুডেন্ট। 

: কষ্ট পাইলাম। 

: কষ্ট তো অনেক দিচ্ছি। এই কষ্ট এমন কিছু না।

: কই কবে কষ্ট দিছো। কিছু তো মনে নাই।

: কষ্টের কথা মনে না থাকলে মনে আনতে নাই।

: নাহ বলো লিখে রাখি। ইদানিং ভুলে যাচ্ছি সব। বুড়া হয়ে যাচ্ছি।

: দেখে তো মনে হচ্ছে না। 

: কি মনে হচ্ছে? আর আমাকে দেখলা কই? দেখলে বুঝতা তোমাকে আমি কত চাই।

: কিভাবে চাও বলো।

: শয়নে, স্বপনে, বাস্তবে আর ক্ল্পনায়। 

: যাও আমি তোমারই। 

: মুখে বললে হবে না। দলিল করে দাও। 

: সাইন লাগবে কোথায়?

: স্ট্যাম্প পেপারে।

: আমি তো ভেবেছিলাম তোমার বুকে। 

: নাহ সেখানে প্রবেশ নিষেধ। 

: নিষিদ্ধ জিনিসেই মানুষ বেশী প্রবেশ করতে চায়। কবি হলে বলতাম তোমার বুকে, ঠোঁটে, চোখে, মুখে আর সবখানে।

: এত সাইন দিয়ে করব কি?

: রেখে দিও যত্ন করে। 

: যত্নের দাম নাই। আজকালের যুগে ভালো মনের দাম দেয়না কেউ। যেমন তুমি আমারে দাও না। 

: আমার কাছে তোমার দাম অনেক। 

: কত বলো। 

: অযুত নক্ষত্র।

: জানি তো টাকা বলবা না। এমন জিনিস বলবা যা নিতে পারবো না। বুদ্ধিমান লোকজনের পরিচয়। 

: আমি বুদ্ধিমান না, আমি আম আদমির কেজরিয়ালও না। আমি ফানুস। পোন্দের মধ্যে আগুন লাগলে উড়ি। 

: অসভ্য। 

Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?

নাম না জানা কোন এক গল্প।

১৪ তারিখ, শুক্রবার। ছুটির দিনে কিছুটা ফাঁকা শহরে একা একা হাঁটছে আপন। শাখারি বাজারের সরু গলি দিয়ে যদিও হেঁটে যাওয়া খুব সহজ কাজ না তারপরও ছুটির দিন আর রোজার দিন হওয়াতে তার সাথে দেশের চলমান অস্থির পরিবেশে কেউ সুস্থিরভাবে বাইরে বের না হবার কারণেই হয়ত লোকজন এখানে এখনও কম।এই পরিস্থিতিতে হাঁটতে হাঁটতে একটা শাখা আর সিদুরের দোকানের সামনে দাঁড়াল আপন। ছোট্ট একটা দোকান কিন্তু সাজানো গুছানো আর সেখানে পরিপাটি সেজে বিশাল দাড়ির সমাহার নিয়ে দোকানের মালিক বসে আছে। লম্বা দাড়ির দিকে চোখ বুলাতে মনে হলো নানান রঙের বাহারে বাহারিত হইয়া আছে তার লম্বা দাড়ি। ঐতিহ্য কে ধরে আর ধারণ করে রাখার চেষ্টা, রঙের ঐতিহ্য, হোলির রং। কিন্তু প্রশ্ন হলো অনেক চাওয়ার পরেও কেউ কিছু ধরে রাখতে পারছে কি? আস্তে আস্তে হাত ফসকে কত কিছু বেরিয়ে যাচ্ছে সেই খেঁয়াল আছেই বা কজনের?  সে যাই হোক এখানে না আসলে আজকে যে হলি ছিলো তা বুঝত না সে।  এখনও যে এই শহরে একটু রং মৃদু বাতাসে উড়ে বেড়ায় তা এখানে না আসলে ইনস্টার রিল দেখে বুঝে নিতে হত। চারদিকে সারা সকাল আর দুপুরের ব্যস্ত রং ক্লান্ত হয়ে ঝিমুচ্ছে এখানে সেখানে রাস্তায় বা রাস্ত...