Skip to main content

এই শহরের নতুন গল্প

 - আপনি ঠিক আছেন তো?

বাসের জানালার পাশে বসা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল শুভ।

মেয়েটি হ্যা না কিছুই বলল না।

এখন করো সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করছে না মেয়েটির।

পাশে বসা ছেলেটিকে বেশ নাছোড়বান্দা মনে হচ্ছে। এইসব ছেলেদের নিয়ে এই এক ঝামেলা। মেয়েদের দেখলেই গায়ে এসে পড়ে কথা বলতে। 

- আমি ঠিক আছি। বিরক্তি চেপে বলল নিতু।

- কাদছেন কেন? কোন সমস্যা?

- সমস্যা নাই। খুশিতে কান্দি। 

শুভ নিতুর কথায় বেশ মজা পেল। শুভ আগে মেয়েদের সাথে কথা বলত না।একটা অস্বস্তি বোধ কাজ করত। কিন্তু কেউ কাদতে দেখলে বসে বসে দেখে চুপ করে থাকা যায় না।

- খুশিতে কেউ কাদে না। হাসে।

- আমি কাদি।

- আপনি ভুল করছেন।

- আচ্ছা। তাতে আপনার কি?

- আমার কিছুই না। তবে কারো কান্না দেখতে পারি না।

- দেখতে কে বলছে। অন্য কোথাও গিয়ে বসুন। বাসে পর্যাপ্ত সিট ফাঁকা আছে।

শুভ গেলো না। মেয়েটিকে একা ছেড়ে তার যেতে ইচ্ছা করছে না। তাছাড়া মেয়েটির শরীর থেকে শিউলী ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। ভালো লাগছে শুভর।


- কোথায় যাবেন আপনি?

- তাতে আপনার দরকার।

- বলুন না। রেগে যাচ্ছেন কেন?

- আমার কথা বলতে ইচ্ছা করছে না তাই।

- কি করতে ইচ্ছা করছে? কাদতে?

- জ্বী।

- আমি কাদাতে আসিনি। হাসাতে এসেছি।

- কে এই দায়িত্ব দিলো আপনাকে?

- কিছু দায়িত্ব দিতে হয় না, নিয়ে নিতে হয়।

- লেকচার দিয়েন না।

- কান্না করিয়েন না। বাই দ্যা ওয়ে আমি শুভ।

- ত চুপচাপ বসে থাকুন না। শুভ হয়ে।

- আপনার নামটা জানা হলো না।

- নাম জেনে কি হবে?

- রোজ একবার করে জপব।

- কেন?

- আপনি সুন্দর। তাই সুন্দরের পূজা করতে হয়।

- মেয়েটি মুখ ঘুরিয়ে হুট করে হেসে দিলো। ছেলেটারে তার যথেস্ট তারছিরা মনে হল। 

- আপনি কি ফ্লার্ট করছেন।

- কই? নাম জানার চেষ্টা করে যাচ্ছি শুধু।

- আচ্ছা বুঝলাম। আমি নিতু।


 নাইস টু মিট ইয়ু নিতু বলে হাত বাড়িয়ে দিল শুভ। নিতু ফেরাতে পারল না। হাতে হাত মিলল। নিতুর কিছু আগের কান্নার কথা কেমন ঝাপসা হয়ে গেল। এই ছেলে কেমন করে মনটা কে শান্ত করে দিল। শুভ নামের ছেলেগুলা কি আসলেই এমন হয়? সব অশুভকে কেমন করে শুভ বানিয়ে দেয়। নাহ একটু ভালোই লাগছে তার এখন। 


(অসমাপ্ত)

Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

আপনের দিনগুলি

  (তৃতীয় পর্ব) রাত অনেক, প্রচণ্ড শীত বাইরে। কনকনে শীতল হাওয়া বইছে। ঘুম আসছে না আপনের চোখে। বাসার নীচে, কাছাকাছি কোথাও হতে ট্রাক থেকে ইট নামানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। এই শহর কখনো নীরব হয়না, রাতেও না। এই শহরের দেওয়ালগুলো কখনও নীরব শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। বিরামহীন শব্দের ভারে শ্রান্ত তাদের দাঁড়িয়ে থাকা। মাঝখানে ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো সে। সেখানেও শীত ছিলো তবে শহরের মতো কোলাহল ছিলো না। আর কোলাহল এর অভাবে সেখানে শীতের মাত্রা আরও ভারী, নিঃশব্দের মাত্রা আরও প্রকট। টিনের চালে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ কানে আসত। কখনও দূর থেকে শিয়ালের ডাক, আর সেই ডাকে হঠাত জেগে উঠা গৃহে পালিত হাঁসের ভয় পাওয়া আর্তনাদ। ঘুম জড়িয়ে আসত চোখে।  আজ আপনের চোখে ঘুম নেই। তরীর কথা মনে পড়ছে না তো? তরীর কথা মনে না পড়লেও, স্মৃতিগুলা মনে হয় এই শীতের রাতেও লেপের উষ্ণতা নিয়ে ভর করতে চায় তার উপর। বিছানা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গিয়ে গ্রীলের বাইরে চোখ রাখল আপন।  এভাবেই দিনের সাথে সাথে রাত কেটে যাচ্ছে তার। কিছুটা ঘোরের মধ্যে, কিছুটা ঘোরের বাইরে। বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। ম...

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?