Skip to main content

আপনের দিনগুলি


(প্রথম পর্ব)

 এই যে আপনি আজকে একটা মেয়ের কথা চিন্তা করে অনুতাপে ভুগছেন যে এই মেয়েকে ভালোবাসতে গিয়ে আপনি আপনার পরিবারের কথা ভুলে যাচ্ছেন, আপনার জন্য তাইলে আজকের কথা। আপনাকে এই অনুতাপের আগুন থেকে বাঁচতে হলে আগে জানতে হবে ভালোবাসার ধরন। ভালোবাসার ধরন এক এক রকম, যেমনটা হৃদপিন্ডের ধরন। চার প্রকোষ্ঠের চারটা ধরন। এক এক প্রকোষ্ঠে ভালোবাসার এক এক রূপ। এই এক এক রূপ আপনার এক এক ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। আর আপনার হয়ে যায় এক এক ব্যাক্তিগত ভালোবাসা। এই যে আপনি আপনার প্রেমিকাকে ভালোবাসতে গিয়ে মনে করছেন আপনার মাকে ভালোবাসা হচ্ছে না, এই ধারণা বদ্ধমূলে না রেখে উজাড় করে দেন। আপনার প্রেমিকার প্রতি ভালোবাসা আপনার একটা ব্যাক্তিগত ভালোবাসা, যেমনটা আপনার পরিবারের প্রতি ভালোবাসা। এই রকম অনেক ব্যাক্তিগত ভালোবাসা অনেকদূর ছুটে এসে একত্রে এসে মিশে, যেমনটা মিশে অনেক নদী মোহনায়, আপনাকে ব্যাক্তি বানায়। মোহনা জায়গাটা শুনতে শ্রুতিমধুর শোনালেও জায়গাটা কঠিন, ভরা যৌবনে যার ধার থাকে, পাক থাকে, দক্ষহাতে দাঁড় না টানলে অতলে তলে তলিয়ে যাবার  সম্ভাবনা থাকে। যে সম্ভাবনাটা তৈরি হয়েছে এখন….


: আপনি আপন? 

একটা কোকিল কণ্ঠির কণ্ঠ শুনে ধ্যান ভাঙ্গল আপনের। ঘুরে তাকাতেই একটু চমকিত হলো আপন। কণ্ঠের ধার তার চেহারাতে স্পষ্ট। স্বর্গের অপ্সরী মনে হয় মর্ত্যে নেমে এসেছে। মেয়েটি তার ভ্যাবাচ্যাকা অবস্থা আন্দাজ করতে পেরে একটু মিটিমিটি হাসল। বাঁকা ধুনুকের মত হাসি তার দেখতে মন্দ লাগছে না। 

: জ্বী। আমিই।

: স্যার আপনাকে ডাকছে? 

: কোনদিকে?

: সামনে সোজা গিয়ে ডানদিকে। 


ইন্টারভিউ জিনিসটা বরাবরই অস্বস্তির কারণ তার। ভার্সিটি জীবনে ভালো রেজাল্ট করলেও ভাইভা তার কোন কালেই ভালো হতো না। সাহানা ম্যাম ছিলো বিধায় অনেক জায়গাতে পার পেয়ে গিয়েছিলো সে। কথা জানে সে কিন্ত গুছানো হয়ে উঠে না তার কথা। তাই উত্তর আসেনা বা আসলেও বলা হয়ে উঠে না গুছিয়ে। যতই সামনে যাচ্ছে বুকের বাদিকে তার দিকদিক করে বেজে যাচ্ছে হৃৎপিন্ড। 

তার আজকে প্রথম জব ইন্টারভিউ। দীর্ঘ একবছর বেকার থাকার পর তার আজকে আকারে আসার দিন। চাকরিটা দরকার। বদ্ধ হাওয়ায় দমবদ্ধ জীবনে সে থাকতে চায় না। একটু স্বাধীনতা দরকার। চিলের মত দূর আকাশে বিচরণ করার স্বাধীনতা। 

দরজা খুলতেই এসির শীতল বাতাস তাকে বরণ করে নিলো। কানে কানে যেন বলে গেলো ভয় নাই। মেয়েটি স্যারের কথা বলেছিলো। ভিতরে ডুকে তার মনে হলো এখানে স্যারেরা বলা দরকার ছিলো। ব্যাকরণ আজকাল কেউ পড়ে না। সারি করে বিশাল এক ডেস্কের সামনে বসে আছেন ছয়জন হোমরা চোমরা ভদ্রলোক এবং চারজন আধাপাকা কেশী ভদ্রমহিলা। 


: আসব স্যার?

: আসুন। 

অপেক্ষাকৃত তরুণী একজন ভদ্রমহিলা বলে উঠল। সামনে এগুতেই আমার হাতে সযত্নে সাজিয়ে রাখা সার্টিফিকেট গুলো উনার বাড়িয়ে দেওয়া হাতে দিয়ে দিল সে। 

: বসুন।

সার্টিফিকেট দেখতে দেখতেই ভদ্রমহিলা বলে উঠলেন আর বাকিদের একজোড়া করে মোট নয় জোড়া চোখ তার সেই কথা অনুসরন করে আপনের দিকে দৃষ্টি স্থাপন করলেন। ভয় বাড়ার কথা থাকলেও আপনের ভয় একটু কমে গেলো মনে হচ্ছে।

: নিজ সম্পর্কে বলুন?

: স্যার আমি আপন। আমার বাড়ি কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, যেখানে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কুঠি, আর তার থেকে তিন চারেক কিলো এগুলেই লালন শাহের মাজার। স্যার, আমি প্রাথমিক, মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা কুষ্টিয়াতেই করেছি। আর স্নাতক আর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি মফস্বলের কোন এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অণুজীববিদ্যা বিষয়ে। আমার ভালো লাগে ঘুরতে, ছবি আঁকতে আর বই পড়তে। 

: কিন্ত এই চাকরি পেলে আপনি তো আর কোন একটা করার সুযোগ নাও পেতে পারেন। 

পাশ থেকে এতক্ষণ একমনে তাকিয়ে থাকা জনৈক ভদ্রলোক বলে উঠলেন।

: স্যার, ইচ্ছা আছে, এখন উপায় বের করে নিতে হবে।

তারপর প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন, প্রাসঙ্গিক উওর দেবার প্রচেষ্টা। 

প্রশ্ন যুদ্ধ শেষ করে সে যখন বের হলো শরীর থেকে বাড়তি কিছু ওজন ঝরে গেলো। বেলুন বেলুন লাগছে তার, কেউ জানালার ফাঁক গলে ছেড়ে দিলে উড়ে যাবার মত অবস্থা। আর দেরী করতে ইচ্ছা না করায় বেরিয়ে পড়ল সে। 


বাইরে বেরিয়ে আপন ভাবার চেষ্টা করল তার ইন্টারভিউ কেমন হইছে। ভাবল মন্দ হয় নাই। একটু ভালো বোধ করল। চাকরি টা তার হয়ে যেতে পারে। তারপরও সরকারি চাকরির উপর সবসময় সন্দেহের মেঘ ঘিরে বসে থাকে। হুট করে বৃষ্টি নেমে পরে আনন্দ ভেস্তে দিতে পারে। যেমনটা ভেস্তে দিয়েছিলো গত বছরের দূর্গা পূজা। দূর্গা পূজায় বৃষ্টি ভালো লাগেনা। বছরের এই একটা সময়টাতে বৃষ্টি পছন্দ না আপনের। বৃষ্টির বদলে বাতাসে ধূপের গন্ধ ভাসবে, তার থেকে একটু এগুলেই শিউলি এসে মাতাল করে দিবে। মাতাল হয়ে রাস্তা দিয়ে যাবার পথে পথ রুদ্ধ করে দিবে ছলাৎ করে। বৃষ্টি আসলে সব ভেস্তে যায়। বৃষ্টিতে ভেজা শিউলি থেকে কুয়াশায় স্নিগ্ধ শিউলি সুন্দর বেশী। বাইরে বেরিয়ে মেঘ ঠিকরে ঝরে পড়া রোদ্দুরের সাক্ষাৎ পেলো সে। এতক্ষণ কোমল শীতল এসি রুমের মধ্যে বসে থেকে হুট করে এত গরম সহ্য হচ্ছিল না। সামনে ঘন নিবিড়ে বাঁশের আগায় পর্দা টাঙিয়ে কয়েকটি টং এর দিকে চোখ পড়ল। আসার সময় খেয়াল করেনি, তখন চোখ ছিলো ইন্টারভিউর কক্ষে। এইখানে অফিস হলে মন্দ হবে না। গাছ আছে পর্যাপ্ত, আর আছে ছায়া। সামনে এগিয়ে রফিক মামার টং থেকে একটা রং চায়ের অর্ডার দিয়ে একটা সিগারেট টানার ইচ্ছা হলো তার। একটা বেনসন নিয়ে সামনে রাবার ফিতায় দুলতে থাকা গোলাপী রং এর একটা লাইটার দিয়ে আগুন দিলো তার সিগারেটে। সামনে অনেক মানুষ। কত্ত মানুষ থাকে এই শহরে! এই শহরটা একটু নিরিবিলি থাকলেও পারত। সামনে চা নিয়ে একটা কৃষ্ণচূড়ার কৃষ্ণ ছায়ায় এসে দাঁড়াল সে। আশেপাশে পরিচিত কেউ নাই। এই শহর এই দিক থেকে গ্রাম থেকে আলাদা। গ্রামের মধ্যে শাসনের চোখ সর্বদা পিছে পিছে ঘুরে। এই বুঝি কেউ দেখে ফেলল। শহরে এমনটা নাই। ঘন নীড়ের মাঝে হাজার হাজার হাজার মাথার ভিড়ে এই একটা জায়গাতেই একটু শান্তি পাওয়া যায়। এখানে পা পিছলে পড়ে গেলেও হাত বাড়িয়ে তোলার মানুষ নেই। সবাই ব্যস্ত সবাইকে নিয়ে। পকেটটা আজ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, মুঠোফোনটা সাথে নেই, থাকলে সামনের ইটের বেদীর উপর দাড়িয়ে থাকা মেহগনির সুউচ্চ ডালে দুইটা চড়ুই দাড়িয়ে গল্প করছে। ভিডিও করে রেখে দেওয়া যেত তাদের খুশগল্প। তবে মজার ব্যাপার হলো ফোনটা না থাকাতে একদিক দিয়ে তাকে সেই চড়ুই গুলার মতোই হালকা লাগছে। সাথে থাকলে ক্ষণে ক্ষণে বেজে উঠতে আর চিন্তার রাজ্যে ব্যাঘাত ঘটত। 


চা-সিগারেট শেষ করে বিল মিটিয়ে হাটা শুরু করল আপন। এই শহরে প্রথম যেদিন এসেছিল  সে দিনের সাথে এই শহরটাকে তার আলাদা মনে হয়। অনেক মিলানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু কিছু মিল বাদে বাকি সব অমিল। মানুষের মনে যখন ভয় থাকে তখন তার দৃষ্টি আর চেতনা এক থাকে আর ভয় না থাকলে অনেকটা বদলে যায় সবকিছু। যেমন এখন আর তার একা একা হাটতে অস্বস্তি বা ভয় লাগেনা। একা হেঁটে বরং তার ভালোই লাগে। রাস্তার ধারে নার্সারির পাশ দিয়ে রঙ্গন, বেলী, বাগানবিলাসের বিলাসিতা দেখতে দেখতে এগিয়ে যাচ্ছে সে। নার্সারির শেষ মাথা থেকে রিক্সা নিতে হবে। কোথায় যাওয়া যায় ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। তরীর সাথে কথা হয়না আর কথা হইলেও দেখা করবে না তরী তার সাথে। কিন্ত আপনের ইচ্ছা করে তরীর সাথে দেখা করতে, ইন্টারভিউর কথা বলতে, হুডবিহীন রিকশায় ঘুরতে। কিন্ত তরী তার কোন কথা শুনা বা বুঝার ব্যাপারে উদাসীন। তাই আপন নিজে যেচে কিছু বলেও না। মনের জমানো কথা তাকেই শোনানো যায় যে শুনতে চায়। 


তো চাইলেই সবকিছু পাওয়া যায় না আর যাবেও না। এই কথা মনে রেখেই সকলের কল্যানে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। পেটে ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করছে, সকাল থেকে চা আর বিড়ি ছাড়া পেটে কিছু পড়েনি আপনের। খাবার দাবাড়ে কেমন যেন রুচি চলে যাচ্ছে তার দিনকে দিন। পকেটে টাকার শূন্যতা জীবনে একটা রুচির শূণ্যতা তৈরি করে। থিসিস চলাকালীন সময়ে ফাঁকা পকেটে পেট ফাঁকা রেখে অনেকদিন থাকতে থাকতে খাবার নিয়ে তার উদাসীনতা প্রকট আকার ধারন করেছে। একটা কিছু হইলেই হল। ভাত খাওয়া যা পোলাও খাওয়াও তা, উদ্দেশ্য যখন ক্ষুধা নিবারণ। তখন ৫ টাকা বাঁচানোর জন্য অনেক পথ হেটে সে বাসায় ফিরেছে। প্রথম প্রথম হাটতে তার মন্দ লাগত। একটা জড়তা কাজ করত কিন্ত ধীরে ধীরে জড়তা কেটে গেছে তার সাথে সাথে হালকা হয়েছে শরীর। এখনের অবস্থাটা যে বেশী ব্যতিক্রম তাও না। চাকরীর কেবল ইন্টার্ভিউ হলো। সরকারী চাকরী সরকারী জিনিস বলে তার দাবীদার অনেক, তার উপর খালা খালুর প্রভাব। আপনের কি আছে? তাকে কজন মানুষই বা চিনে। যে সাবজেক্ট নিয়ে পড়ল সেখানে রেজাল্ট ভালো করেও সঠিক গুরুজনের সান্নিধ্য না পেয়ে কিছুই করতে পারল না আর এখানে যে পারবে সেটাও কেমন ধোয়াশা ধোয়াশা। তারপরও এক আশার কল্যানে কত মানুষ বেঁচে আছে, একটু আশা মানুষ হিসেবে সে করতেই পারে। 


বাসায় ফেরা দরকার। শুক্রবার হওয়াতে রাস্তা আজকে ফাঁকাই। মধ্য দুপুরের গরম হাওয়ায় বাসে চড়তে ইচ্ছা হলোনা তার। মানিব্যাগে মানির অভাব থাকলেও ইচ্ছা সবসময় অভাবের কথা স্বভাবে না রেখে উজাড় করে দেয়। সীমাবদ্ধতার মাঝেও আকাশ বড়, খালি একটু বাধা অতিক্রম করতে পারলে উড়া অসম্ভব কিছু না। আর তার জন্য অর্থের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হলেও অপরিহার্য নয়। আপনের চাকরীটা হয়ে যাবে। ফুট ওভার ব্রীজ এর বাঁধা পেরিয়ে রিক্সা নিয়ে গন্তব্যের দিকে বেরিয়ে পড়ল সে। অনেক কিছুর জ্যাম ঠেলে এখনও যেতে হবে অনেকদূর। 

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?

নাম না জানা কোন এক গল্প।

১৪ তারিখ, শুক্রবার। ছুটির দিনে কিছুটা ফাঁকা শহরে একা একা হাঁটছে আপন। শাখারি বাজারের সরু গলি দিয়ে যদিও হেঁটে যাওয়া খুব সহজ কাজ না তারপরও ছুটির দিন আর রোজার দিন হওয়াতে তার সাথে দেশের চলমান অস্থির পরিবেশে কেউ সুস্থিরভাবে বাইরে বের না হবার কারণেই হয়ত লোকজন এখানে এখনও কম।এই পরিস্থিতিতে হাঁটতে হাঁটতে একটা শাখা আর সিদুরের দোকানের সামনে দাঁড়াল আপন। ছোট্ট একটা দোকান কিন্তু সাজানো গুছানো আর সেখানে পরিপাটি সেজে বিশাল দাড়ির সমাহার নিয়ে দোকানের মালিক বসে আছে। লম্বা দাড়ির দিকে চোখ বুলাতে মনে হলো নানান রঙের বাহারে বাহারিত হইয়া আছে তার লম্বা দাড়ি। ঐতিহ্য কে ধরে আর ধারণ করে রাখার চেষ্টা, রঙের ঐতিহ্য, হোলির রং। কিন্তু প্রশ্ন হলো অনেক চাওয়ার পরেও কেউ কিছু ধরে রাখতে পারছে কি? আস্তে আস্তে হাত ফসকে কত কিছু বেরিয়ে যাচ্ছে সেই খেঁয়াল আছেই বা কজনের?  সে যাই হোক এখানে না আসলে আজকে যে হলি ছিলো তা বুঝত না সে।  এখনও যে এই শহরে একটু রং মৃদু বাতাসে উড়ে বেড়ায় তা এখানে না আসলে ইনস্টার রিল দেখে বুঝে নিতে হত। চারদিকে সারা সকাল আর দুপুরের ব্যস্ত রং ক্লান্ত হয়ে ঝিমুচ্ছে এখানে সেখানে রাস্তায় বা রাস্ত...