Skip to main content

আপনের দিনগুলি

(দ্বিতীয় পর্ব)

ডিপ্রেশন এর ঠিক বাংলাটা কি? ইংরেজীতে গুগলের কল্যাণে একটা সংজ্ঞা পাওয়া গেলো যেটা এমন - Depression (major depressive disorder) is a common and serious medical illness that negatively affects how you feel, the way you think and how you act. Fortunately, it is also treatable. Depression causes feelings of sadness and/or a loss of interest in activities you once enjoyed. It can lead to a variety of emotional and physical problems and can decrease your ability to function at work and at home. 


বিষণ্ণতা মানে এক প্রকার নিরসতা যা এক সময়ে সাধারণ একটা প্রদূর্ভাব থেকে মারাত্মক সমস্যায় পরিণত হতে পারে এবং একই সাথে যা আমাদের যাপিত জীবন যেমন আমাদের অনুভূতি, আমাদের চিন্তাভাবনা, আমাদের ক্রিয়ার উপর একটা নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কিন্তু আমরা চাইলেই পারি এই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করতে। কিন্তু সেই চেষ্টা আমরা করি কজন? 


তো এককালে যেসব কাজে আমাদের সুখ ছিলো বিষণ্ণতা আক্রান্ত কালে সেসব কাজে অবসাদের কালো ছায়া পড়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এই রোগে ভোগা রোগী। ভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে সাহানা ম্যাম ক্লাস নিতে গিয়ে বলেছিলেন, উনি মলিকিউলার জেনেটিক্স পড়াচ্ছিলেন খুব সম্ভবত, depression causes cancer. কথাটা আপনের স্পষ্ট মনে আছে এখন অবধি। জীবনের অনেক পর্যায়ে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় যখন মন বিষণ্ণ হয়ে পড়ে, মস্তিষ্কের চিন্তা কলুষিত হয়ে যায়। এমন একটা অবস্থা তখন বিষণ্ণ না হয়ে পারা যায় না। বিষন্নতা কালো গর্তের মতো। একবার ঢুবলে শেষ, হারাতে হারাতে বিলীন। ঠিক ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর মতো।


সে যাই হোক। অত প্রবল বা অত প্রখর না এটা। মাঝে মাঝে আপনের মনও অনেক বিষণ্ণ হয়ে পড়ে কিংবা বলা যায় আপন এখন বিষন্নতার রোগে ভোগা রোগী। যারা একা একা থাকে, আশেপাশের পরিবেশ যাদের মানিয়ে নিতে কষ্ট হয় তাদেরই বিষন্নতা নামক অসুখ সংক্রমণ করে বেশী। মাঝখানে একটা সময় ছিলো যখন সে তার পড়াশোনা শেষ করে খুব হতাশায় ভুগছিল। কি করবে সে? কোথায় চাকরী নিবে। বৃহৎ এই সংসারে নিজেকে খুব ছোট্ট মনে হচ্ছিলো তার। মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা। তখনই নিজেকে একটু গোছানোর চিন্তা তার মাথায় আসে। ৭৮ কেজি ওজনের বাড়ন্ত শরীরের প্রত্যেক অঙ্গানুতে রক্তের প্রবাহ হয়ত ঠিকঠাক হচ্ছিলো না তাই সে রেগুলার ব্যায়াম শুরু করে দিলো। বই পড়া শুরু করে দিলো সাথে সাথে চাকরির পড়া। সময় যতটুকু পারা যায় ততটুকু কাজে লাগানোর চেষ্টা করে দিলো। বারান্দায় গাছ লাগানো শুরু করলো। তখন চিকেন স্যুপ ফর দ্যা সোল বইটা থেকে একটা ধার করা উক্তি তার নিজের জীবনে প্রয়োগ করলে। 


"It is better to be prepared for an opportunity and not have one than to have an opportunity and not be prepared.”


নিজেকে সুযোগের জন্য প্রস্তুত করা শুরু করল সে। আর এর ফলাফল সে তিন মাসের মধ্যে পেয়ে গেলো। এই মেন্টাল শিফট থেকে সে কয়েকটা জিনিস বুঝতে ও শিখে গেলো-


১) বাড়তি ওজন শরীর কে অবশ করে রাখে। আর এই ওজন বহন করতে থাকলে আস্তে আস্তে একজন মানুষের কর্মক্ষমতা কমতে থাকে, আর স্বাভাবিক জীবন ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। ওজন সঠিক রেঞ্জ (BMI) এর মধ্যে থাকলে চলাফেরায় যে শান্তি পাওয়া যায় সেটা বডি ফিট না থাকলে পাওয়া যায় না। 


২) বই পড়া অনেকে সময় অপচয়ের সাথে তুলনা করে। কিন্ত যদি চিন্তা সমৃদ্ধ করতে চায় মানুষ তাইলে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক। এই যে দেশে এখন জ্ঞানী লোকের অভাব বা গবেষকের অভাব বা তৈরি হচ্ছে না তার আরেকটা প্রধান কারণ হলো লোকজন ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে তথা প্রস্তুতি না নিয়েই মাঠে নেমে পড়ে। যার কারণে সঠিক ও সমৃদ্ধ জিনিস হাতের নাগালে আসে না। 


৩) পজিটিভ থাকা। মনের মধ্যে নেগেটিভ চিন্তা থাকা মানেই মনের বৃদ্ধি রহিত হওয়া। নেগেটিভ চিন্তার কারণে আত্ম উন্নতির সিড়ি বড় হয় না। নিজে পজেটিভ থাকা মানে আত্ম উন্নতির চাকা সচল রাখা। পজেটিভ থাকলে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশী অনুভব করা যায় সেটা হল নিরাশ হবার সম্ভাবনা কমে যায়। এই যে আপনের বন্ধুদের চাকরি হয়ে যাচ্ছে, ঘুরছে ফিরছে সেগুলা তাকে বিরক্ত করেনি মোটেও কেননা সে জানত সঠিক সময়ে সঠিক জায়গার সন্ধান সে  পাবে। পরে যেটা সে পেয়েছে সেটা সম্ভব হয়েছে তার পজেটিভ থাকার জন্যই।


৪) যা ভালো লাগে তাই করা। আমরা আমাদের জীবনের অনেকটা সময় পার করে দেই আমাদের কি ভালো লাগে খুঁজে বের করতে। ক্রমশ সময়ের তালে পরিবর্তনশীল জীবনের ভালো লাগার তালিকায় প্রথম সারিতে থাকা জিনিস করার বা পাবার সুযোগও সবসময় আমাদের হয়ে উঠেনা। নতুন নতুন জিনিস আসতে থাকে, নতুন নতুন ভালো লাগা তৈরি হয়। কিন্ত তারপরও দিনশেষে একটা হতাশা কাজ করে ভালো লাগার জিনিসগুলা আসলেই ভালো লাগছে কি না সেই প্রশ্ন সামনে চলে আসে। তো বই পড়া যদি ভালো লাগার একটা কারণ হয়, প্রতিদিন একটু করে হলেও বই পড়ার চেষ্টা করতে হবে। চব্বিশ ঘণ্টার একদিনে যতটুকু ভালো লাগার জিনিস করা যায় ততই খারাপ লাগার সময় কমে যায়। জীবনের বর্ণালী স্বাচ্ছন্দ্যভাবে তার বর্ণ প্রকাশ করতে শুরু করে। সময় আর সুযোগ পাওয়া যাবে না কিন্ত বের করে নিতে হবে। 


৫) চিন্তা যেনো কোনভাবেই দুঃশ্চিন্তার কারণ না হয়। আমাদের চিন্তার রাজ্য বিশাল আর এই বিশালতার মাঝে হারিয়ে যাওয়া সহজ। এই জগৎ অনুসন্ধানে নামা ভালো কিন্ত হারিয়ে গেলে ঝামেলা। সব চিন্তা তখন তার দিক হারিয়ে দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনে করেন আপনার কাছে মনে হয় আপনি পরিবারের লোকজনের জন্য তেমন সময় দিচ্ছেন না এবং এই জিনিসটা আপনার চিন্তার কারণ হচ্ছে ক্রমশ। এই ধরনের চিন্তাকে একটা দিক না দিলে সেইটা মনে ক্রমশ উত্তেজনার সৃষ্টি করে। 


তো দিক দিতে হবে বিষণ্ণতা কে। বিষণ্ণতা কাটানো সহজ কিন্তু আমরা সহজ কাজ খুব সহভাবে কখনোই করিনা। আস্তে আস্তে সবাই কেমন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী হয়ে যাচ্ছি সহজ কাজ সহজভাবে না করে। এই হইল হালচাল আর কি। 


Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?

নাম না জানা কোন এক গল্প।

১৪ তারিখ, শুক্রবার। ছুটির দিনে কিছুটা ফাঁকা শহরে একা একা হাঁটছে আপন। শাখারি বাজারের সরু গলি দিয়ে যদিও হেঁটে যাওয়া খুব সহজ কাজ না তারপরও ছুটির দিন আর রোজার দিন হওয়াতে তার সাথে দেশের চলমান অস্থির পরিবেশে কেউ সুস্থিরভাবে বাইরে বের না হবার কারণেই হয়ত লোকজন এখানে এখনও কম।এই পরিস্থিতিতে হাঁটতে হাঁটতে একটা শাখা আর সিদুরের দোকানের সামনে দাঁড়াল আপন। ছোট্ট একটা দোকান কিন্তু সাজানো গুছানো আর সেখানে পরিপাটি সেজে বিশাল দাড়ির সমাহার নিয়ে দোকানের মালিক বসে আছে। লম্বা দাড়ির দিকে চোখ বুলাতে মনে হলো নানান রঙের বাহারে বাহারিত হইয়া আছে তার লম্বা দাড়ি। ঐতিহ্য কে ধরে আর ধারণ করে রাখার চেষ্টা, রঙের ঐতিহ্য, হোলির রং। কিন্তু প্রশ্ন হলো অনেক চাওয়ার পরেও কেউ কিছু ধরে রাখতে পারছে কি? আস্তে আস্তে হাত ফসকে কত কিছু বেরিয়ে যাচ্ছে সেই খেঁয়াল আছেই বা কজনের?  সে যাই হোক এখানে না আসলে আজকে যে হলি ছিলো তা বুঝত না সে।  এখনও যে এই শহরে একটু রং মৃদু বাতাসে উড়ে বেড়ায় তা এখানে না আসলে ইনস্টার রিল দেখে বুঝে নিতে হত। চারদিকে সারা সকাল আর দুপুরের ব্যস্ত রং ক্লান্ত হয়ে ঝিমুচ্ছে এখানে সেখানে রাস্তায় বা রাস্ত...