Skip to main content

প্র-বচন: ৫

 ১। 

পৃথিবী একটা কঠিন জায়গা আর এই জায়গায় বসবাস করাও একটু কঠিনই বৈকি। আসলে এটাকে বসবাস করা বলা থেকে সর্ভাইভ বা টিকে থাকা বলা ভালো। সবাই সবার পরিস্থিতি থেকে একটা ভাসমান পর্যায়ে আছে। কেউ সুখে নাই আবার কেউ দুঃখেও নাই। বলা চলে সবাই একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সকাল বেলা সুখে থাকছে, দুপুরে সুখের ঘরে দুপুর বেলার আলসে ঘুম, বেলা গড়িয়ে সুখের ঘরে সন্ধ্যার বিষাদের ছায়া তারপর একলা রাতের নীরবতা। অবস্থান ভেদে সবার পরিস্থিতি এক, সবার মনে হরিষে-বিষাদ। 


২।


দূরে থেকে কখনো সঠিক জিনিসের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়না বা বুঝা যায় না কোন জিনিসের প্রভাব। দূর থেকে সবজিনিসই সুন্দর লাগে আবার মাঝে মাঝে ভ্রমও হয় আর তাই পরখ করার জন্য দূরে না থেকে কাছে আসতে হয়, বুঝে নিতে হয় বুঝে নেওয়ার জিনিস। দূর থেকে দেখলাম আর চলে গেলাম আর সেই ভাসা ভাসা  জ্ঞান নিয়ে জানা হয়না বা বুঝানো যায় না আসল পরিস্থিতি। দূর থেকে সাগরের বুকে ভেসে থাকা বরফের টুকরা দেখে মনে হতে পারে ছোট্ট একটা বরফ খণ্ড যা সহজেই ৬০ হাজার টনের জাহাজ ভেদ করে চলে যাবে। কিন্তু কাছে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে মনে হলো দূর থেকে দেখে করা হিসাবে ভুল ছিলো আর তার পরিণতি হিসাবে বিশাল সাগরের বুকে জাহাজ আর জ্যাকের মতো অনেকের সলিল সমাধি। আর এভাবে ভুল হিসাবের মাশুল দিতে গিয়ে জ্যাক এর মতো প্রেমিকরা তলিয়ে যায় আর রোজের মতো ব্যথা বয়ে চলা প্রেমিকার সৃষ্টি হয়। 


এভাবেই কুয়াশার জাল ঘন হতে থাকে, জটিল হতে থাকে আমাদের পথচলা। মাঝখান দিয়ে সময় বয়ে চলে আর হারাতে থাকে 

মুহুর্তরা।


৩।


কর্ম করলে ফল পাবেন এটাই স্বাভাবিক,

শেখ হাসিনার মতো রাজনীতিবিদ এই দেশে বিরল, 

কিন্তু এই দেশের পরিবেশ মেধাবীদের বিকশিত হতে দেয়না।

চাটুকারদের ভিড়ে মাঝে মাঝে বিচক্ষণ লোকও ঘাবড়ে যায় আর এই দেশে ক্ষমতায় যে বসে সে আজীবন ক্ষমতায় বসে থাকার স্বপ্ন লালন করতে থাকে। এই দেশের ক্ষমতার চেয়ার অনেক লোভী। 

তারপরও পরিবর্তন একটা চিরস্থায়ী প্রথা আর সেই প্রথায় কেউ হস্তক্ষেপ করলে বা দমায় রাখার চেষ্টা করলে তাকেই পরিবর্তিত করে দেয় প্রকৃতি।


এতে দেশের শান্তি বিঘ্নিত হয়, প্রতিযোগিতার পৃথিবী থেকে সে আরও পিছিয়ে পড়তে থাকে। তাই আলো দরকার আর দরকার পরিষ্কার চিন্তা ভাবনার। মন ও মানসিকতার পরিবর্তন না হলে সরকার নামানো বা উঠানো যাবে কিন্তু দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হবেনা।


কেননা আমরা জানি স্বাধীনতা অর্জনের চাইতে রক্ষা করা কঠিন।


৪।


একে একে ধরাধামে,

কত আকুতি, কত মিনতি। 

নিজেকে নিজে না জানিলে,

দুর্ভোগই হয় তবে পরিণতি।


৫।


সম্পর্ক একটা কঠিন জিনিস যা গড়তে সময় লাগে কিন্তু ভাঙতে সময় লাগেনা। এই ক্রম বর্ধমান অসহিষ্ণু হয়ে উঠা জগৎ সংসারে এই একটা জিনিস খুব ঠুনকো হয়ে যাচ্ছে মানে সঠিকভাবে আর সঠিক উপায়ে সম্পর্ক বিকশিত হচ্ছে না যেমন পানি আর ছোট ছোট অনুপুষ্টি উপাদানের অভাবে পুষ্প ঠিকঠাক বিকশিত হয়না। তারপরও আদিম চিন্তার লালনকারী বা ধারণকারী কিছু মানুষ আছে যারা সম্পর্ক তাদের নিয়মে বিস্তার করে চলে,  ঠিক মাকড়সা যেমন করে তার জাল বিস্তার করে। 


উদ্দেশ্য আর বিধেয় ছাড়া যেমন বাক্যের গঠন হয়না ঠিক তেমনি কোন উদ্দেশ্য ছাড়া এখনকার সম্পর্ক গড়ে উঠে না। কিন্তু একযুগে এইরকম ব্যাকরণ মেনে কোন সম্পর্ক স্থাপিত হতো না। তখন যেটা হতো সেটা হলো মনের সুর এক তালে বা এক লয়ে বা ভিন্ন তাল এক হয়ে সমস্বরে বাজলেই সম্পর্ক হয়ে যেতো। মিষ্টি ছিলো তার সুর আর মজবুত ছিলো বন্ধন কিন্তু এখনকার দিনে মিষ্টতার মাপকাঠি স্যাকারিন নামের এক রাসায়নিক যৌগ দ্বারা পরিমাপ করা হয় আর তেলের আধিক্যে বন্ধনও কেমন জানি পিচ্ছিল পিচ্ছিল লাগে যেখানে একসাথে হাটতে গেলে পা ফসকে যাবার সম্ভাবনা থাকে। 


তারপরও সম্পর্কে জড়ায় মানুষ বা জড়ানোর চেষ্টা করে। দিনের ক্লান্তি শেষে শান্তির খুঁজে সু সম্পর্কের ছায়া নীরে একটু  শান্ত হতে আসে। কিছু টিকে যায় আবার কিছু বাঁধন ছিড়ে বেরিয়ে আসে আবার কিছু জোড়া লাগার অসীম ইচ্ছা নিয়েও পারেনা। রসায়ন বিজ্ঞানের বইয়ে নিষ্ক্রিয় ধাতুর কথা পড়েছিলাম। জেনেছিলাম তারা কোন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ক্রিয়া বিক্রিয়ায় নিজেদের জড়ায় না। কিন্তু প্রকৃতিতে সকল মৌল অন্য আরেক  মৌলের সাথে বিক্রিয়া করলে সেটা সুস্থির হয় তক্ষনই যখন দুই মৌল একত্রে একসাথে নিষ্ক্রিয় ধাতুর ন্যায় আচরণ করে। 


কিছু মানুষ থাকে নিষ্ক্রিয় ধাতুর মতো যারা এমনিতেই সুস্থির থাকে বা যাদের ইলেকট্রন শেয়ার করে বন্ধন গঠন করার কোন প্রয়োজন পড়ে না। তারপরও সম্পর্কে জড়ানো মানুষের আদিম স্বভাব আর সেই ভাব ধরে রাখতে গিয়ে  মৌলিক মানুষ যৌগিক জীবন গড়ে তোলে। যেমনটা নিষ্ক্রিয় ধাতুর বেলাতেও ঘটে আর তারাও চাপে পড়ে বন্ধন গড়ে নিয়নের আলোয় আলোকিত করে পথ। একটু বিবর্ণ দেখালেও  সম্পর্কের মাঝেই আছি শান্তি। 


(০২.০৯.২০২৪)




Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

আপনের দিনগুলি

  (তৃতীয় পর্ব) রাত অনেক, প্রচণ্ড শীত বাইরে। কনকনে শীতল হাওয়া বইছে। ঘুম আসছে না আপনের চোখে। বাসার নীচে, কাছাকাছি কোথাও হতে ট্রাক থেকে ইট নামানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। এই শহর কখনো নীরব হয়না, রাতেও না। এই শহরের দেওয়ালগুলো কখনও নীরব শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। বিরামহীন শব্দের ভারে শ্রান্ত তাদের দাঁড়িয়ে থাকা। মাঝখানে ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো সে। সেখানেও শীত ছিলো তবে শহরের মতো কোলাহল ছিলো না। আর কোলাহল এর অভাবে সেখানে শীতের মাত্রা আরও ভারী, নিঃশব্দের মাত্রা আরও প্রকট। টিনের চালে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ কানে আসত। কখনও দূর থেকে শিয়ালের ডাক, আর সেই ডাকে হঠাত জেগে উঠা গৃহে পালিত হাঁসের ভয় পাওয়া আর্তনাদ। ঘুম জড়িয়ে আসত চোখে।  আজ আপনের চোখে ঘুম নেই। তরীর কথা মনে পড়ছে না তো? তরীর কথা মনে না পড়লেও, স্মৃতিগুলা মনে হয় এই শীতের রাতেও লেপের উষ্ণতা নিয়ে ভর করতে চায় তার উপর। বিছানা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গিয়ে গ্রীলের বাইরে চোখ রাখল আপন।  এভাবেই দিনের সাথে সাথে রাত কেটে যাচ্ছে তার। কিছুটা ঘোরের মধ্যে, কিছুটা ঘোরের বাইরে। বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। ম...

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?