Skip to main content

দিনগুলি

 ছোটবেলা থেকেই পদার্থ বিজ্ঞান সাবজেক্টটা কঠিন লাগত। নিউটন যতটা সহজে আপেল গাছের নীচে বসে আপেল পড়ার ঘটনা নিয়ে মহাকর্ষ আর অভিকর্ষের সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন ঠিক ততটা সহজে এই বিজ্ঞানের ভাষা আয়ত্ত করা যেতো না। আয়ত্ত করা যেতো না বললে ভুল বলা হবে বরং বলা ভালো আকর্ষণ করতো না এই বিজ্ঞান তেমন একটা। 


বিজ্ঞান এমন একটা জিনিস যা সবকিছু নিয়ে আর সবকিছু দিয়ে গঠিত হয়। মানে আপনি চাইলে এক জ্ঞান থেকে ধারণা নিয়ে আরেক জায়গায় প্রয়োগ করতে পারবেন আর সেই কারণেই এর নাম বিজ্ঞান, বিশদ আর বিশেষ ভাবে বিশ্লেষণ যেই জ্ঞান থাকলে করা যায়। তো সময়জ্ঞান পদার্থ বিজ্ঞানের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সময় এর সাথে আর সময়কে নিয়ে সব ঘটনার আবর্তন, বিবর্তন বা ঘুর্ণন। সময়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে সব। তাই সময়ের দাম আছে, মাত্রা আছে আর আছে একক। 


এতকিছু থাকার পরেও মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা সময় নিয়ে সচেতন না আর তা না থাকার কারণে আমরা সময়কে ঠিক সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনা। সময়ের কাজ সময়ে করতে পারিনা আর তাই ক্রিয়া তার কর্তৃত্ব হারাচ্ছে আর কর্ম হারাচ্ছে ফল। এভাবে জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের অনেক মাত্রা, হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের দাম। এতকিছু বুঝে উঠতেও সময় লেগে যায় কিন্তু প্রশ্ন হলো এত সময় আদৌ আছে কি আমাদের হাতে?


তো কিছুদিন আগে একটা মুভি দেখেছিলাম যার নাম ‘96‘, সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি। মুভিটা আগেই দেখেছিলাম তবে  হাতে কোন কাজ না থাকাতে আবার রিক্যাপ করছিলাম আরকি।এই মুভিটা আমার বরাবরই ভালো লাগে আর ঠাণ্ডা মুভি আমার সবসময়ই পছন্দ তার উপর প্রেমের মুভি। মুভির গল্পে ছোটবেলার নায়ক সঠিকভাবে নিজের প্রেম উপস্থাপন করতে না পারার কারণে একে অপরকে অধিকভাবে ভালবাসার পরেও বড় হয়ে দুইজনকে দুইপথ বেছে নিতে হয়। ক্লাস টেনে তাদের মধ্যে ভালোবাসার যেই রূপ ছিলো সেই রূপই আছে কিন্তু সময় একটা ব্যবধান গড়ে দিয়েছে যেটা এই জনমে আর তারা ভেদ করতে পারেনা বা ভেদ করার চেষ্টাও করে না। 


কাহানি চক্রে এমন কিছু জায়গা বা মুহুর্ত আছে যেখানে চাইলেই কাহানির মোর পাল্টে ফেলা যাইত। নায়ক চাইলেই তার প্রকাশের ভাষা আরও সরল করতে পারত বা আড়াল থেকে বের হতে পারত। কিন্তু কিছু জিনিস আসলে কোনদিন করা হয়ে উঠেনা। কিছু মানুষ সঠিক সময়ে নিজেদের সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেনা আর তাই সেই সব মানুষজন সারাজীবনের জন্য একটা উদভ্রান্ত পথে ভ্রান্ত পথিক হয়ে পথ বিচরণ করতে থাকে। গল্পে নায়কের হয়েছেও তাই। সে তার জীবনের যে ফটো ফ্রেম করে রাখতে পারেনি সেই ফটোর খুঁজে বেরিয়ে পড়ে আর নায়িকা বিদেশে স্বামী সন্তান নিয়ে সংসার করে। এখানে কেউই সংসারে তাদের শতভাগ মনোযোগ দিতে পারেনা। পুরনো সময় তাদের তাড়া করে, তারা বেড়াতে থাকে দুদুল্যমান সরল দোলকে পিছুটান রেখে।


সে যাই হোক বিচ্ছেদের গল্প বরাবরই সুন্দর। এই গল্পটাও সুন্দর। যদিও এখানে বিচ্ছেদ নেই কিন্তু আছে দূরে থাকা বা দূরে থেকেও কাছে থাকা আর এখানেও সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সময় স্মৃতি কুড়ায়, আর ক্ষণে ক্ষণে মনের কোণে অতীত কে তুলে ধরে মনের যাতনা বাড়ায়। কিন্তু কে শোনে কার কথা, সময় বয়ে চলে আপন পথে আর আপন নিয়মে। 


যারা নীরব, নিভৃত আর সাদামাটা ভালোবাসার কাহানি পছন্দ করেন তারা দেখতে পারেন এই মুভি। 

Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দী চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

আপনের দিনগুলি

  (তৃতীয় পর্ব) রাত অনেক, প্রচণ্ড শীত বাইরে। কনকনে শীতল হাওয়া বইছে। ঘুম আসছে না আপনের চোখে। বাসার নীচে, কাছাকাছি কোথাও হতে ট্রাক থেকে ইট নামানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। এই শহর কখনো নীরব হয়না, রাতেও না। এই শহরের দেওয়ালগুলো কখনও নীরব শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। বিরামহীন শব্দের ভারে শ্রান্ত তাদের দাঁড়িয়ে থাকা। মাঝখানে ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো সে। সেখানেও শীত ছিলো তবে শহরের মতো কোলাহল ছিলো না। আর কোলাহল এর অভাবে সেখানে শীতের মাত্রা আরও ভারী, নিঃশব্দের মাত্রা আরও প্রকট। টিনের চালে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ কানে আসত। কখনও দূর থেকে শিয়ালের ডাক, আর সেই ডাকে হঠাত জেগে উঠা গৃহে পালিত হাঁসের ভয় পাওয়া আর্তনাদ। ঘুম জড়িয়ে আসত চোখে।  আজ আপনের চোখে ঘুম নেই। তরীর কথা মনে পড়ছে না তো? তরীর কথা মনে না পড়লেও, স্মৃতিগুলা মনে হয় এই শীতের রাতেও লেপের উষ্ণতা নিয়ে ভর করতে চায় তার উপর। বিছানা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গিয়ে গ্রীলের বাইরে চোখ রাখল আপন।  এভাবেই দিনের সাথে সাথে রাত কেটে যাচ্ছে তার। কিছুটা ঘোরের মধ্যে, কিছুটা ঘোরের বাইরে। বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। ম...

আপনের দিনগুলি

  শীত শেষ। দিন দশেকের কাপুনিতে শীত যেন তার সর্বস্ব দিয়ে গেছে। এখন যা আছে বা যা অনুভূত হচ্ছে, তা হলো শীতকে জিইয়ে রাখার এক অদ্ভুত তাড়না। একসময় Winter is coming বললে একটা গম্ভীর আবহ তৈরি হতো। এখন গরমকাল আসার কথাতেই মানুষের হৃদয় কেঁপে উঠে। যেমনটা আজকাল প্রায়ই কেঁপে উঠে, ঘুমের মধ্যে কিংবা জেগে থাকতেই হঠাৎ করে বিল্ডিং কেঁপে উঠে; ইদানীং ভূমিকম্প হচ্ছে খুব।  গরমকাল মানেই এখন প্রচণ্ড গরম।  উত্তপ্ত চুলার ওপর ভাত যেমন ফটফট শব্দে ফুটতে থাকে, গরমের দিনে শরীরটাও তেমনই সিদ্ধ হতে থাকে। পার্থক্য শুধু এই, এখানে শব্দ শোনা যায় না। সবকিছু ভেতরে ভেতরে ঘুমরে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাস চলে এলো। বারো মাসের এক বছরে এই মাসটা আপনের বরাবরের পছন্দের। প্রথমত, মাসটা ছোট। দ্বিতীয়ত, এটা ভালোবাসার মাস, যুগলবন্দী হবার মাস, সরস্বতী পূজার মাস, ভাষা শহীদের মাস, বইমেলার মাস। আর তরীর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মাসও বটে। কিন্তু এই বছরটা কেমন যেন ব্যতিক্রম। শুভ পঞ্চমীর তিথি জানুয়ারিতে পড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি আর সরস্বতী পূজার মাস হলো না। বইমেলাও হচ্ছে না। আরও অনেক কিছুই যেন হলো না। এই মাসটা ক্রমে ‘না-হবার মাস’ হয়ে উঠছে...