Skip to main content

দুঃখ-বিলাস

 আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো

কচুর পাতায় জমে থাকা জলের জন্য

গাছের ছায়ায় বুনা মাকড়সার জালের জন্য

আমি হয়ত মারা যাবো জ্যোষ্ঠের দুপুরে 

ঝিঁঝিঁ পোকার দুপুর গরম করা ডাকের জন্য

আমি মারা যাবো দেরী করে আসা বর্ষার জন্য।


আমি মারা যাবো জোনাকির টিম টিম আলোর জন্য

দূর থেকে ভেসে আসা শিয়ালের ডাকের জন্য

আমি মারা যাবো বৃষ্টি ভেজা কদম

প্রেমিকার খোঁপায় না গুজা ফুলের জন্য

আমি মারা যাবো শুকিয়ে আসা নদীর জন্য

আমি মারা যাবো তোমাদের বেখেয়ালির জন্য। 


আমি মারা যাবো টুনটুনির ছটফটানির জন্য 

মারা যাবো ভর দুপুরে আমারো পরানো যাহা চায় তার জন্য

আমি মারা যাবো বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদের জন্য

আমি মারা যাবো পুকুরের জলে টলমল জ্যোতস্নার জন্য

আমি মারা যাবো হারিকেনের আলোয়,

জমে থাকা কালির জন্য। 


আমি মারা যাবো উঁচু দেওয়ালের এই শহরে

একটু ফাঁকা নীল আকাশের জন্য

আমি মারা যাবো একটুখানি খালি জায়গার জন্য 

নির্বিঘ্নে প্রিয়ার সাথে দুটি কথা বলার জন্য।

আমি মারা যাবো ডাকবক্সে না পড়া চিঠির হাহাকারে

কারো ঘুমের ভেতরে একটি ছোট দীর্ঘশ্বাসের জন্য।


আমি মারা যাবো খুব ছোট দুঃখের জন্য। 


(হুমায়ূন আজাদ এর কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত)


Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

আপনের দিনগুলি

  (তৃতীয় পর্ব) রাত অনেক, প্রচণ্ড শীত বাইরে। কনকনে শীতল হাওয়া বইছে। ঘুম আসছে না আপনের চোখে। বাসার নীচে, কাছাকাছি কোথাও হতে ট্রাক থেকে ইট নামানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। এই শহর কখনো নীরব হয়না, রাতেও না। এই শহরের দেওয়ালগুলো কখনও নীরব শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। বিরামহীন শব্দের ভারে শ্রান্ত তাদের দাঁড়িয়ে থাকা। মাঝখানে ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো সে। সেখানেও শীত ছিলো তবে শহরের মতো কোলাহল ছিলো না। আর কোলাহল এর অভাবে সেখানে শীতের মাত্রা আরও ভারী, নিঃশব্দের মাত্রা আরও প্রকট। টিনের চালে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ কানে আসত। কখনও দূর থেকে শিয়ালের ডাক, আর সেই ডাকে হঠাত জেগে উঠা গৃহে পালিত হাঁসের ভয় পাওয়া আর্তনাদ। ঘুম জড়িয়ে আসত চোখে।  আজ আপনের চোখে ঘুম নেই। তরীর কথা মনে পড়ছে না তো? তরীর কথা মনে না পড়লেও, স্মৃতিগুলা মনে হয় এই শীতের রাতেও লেপের উষ্ণতা নিয়ে ভর করতে চায় তার উপর। বিছানা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গিয়ে গ্রীলের বাইরে চোখ রাখল আপন।  এভাবেই দিনের সাথে সাথে রাত কেটে যাচ্ছে তার। কিছুটা ঘোরের মধ্যে, কিছুটা ঘোরের বাইরে। বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। ম...

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?