দেখতে দেখতে অবশেষে শীত আসছে এই শহরে। যে শীত সাধারণত অক্টোবরের শেষ দিকে এসে জানান দিতে শুরু করে, সে শীত এখন নভেম্বরের শেষ প্রান্তে এসে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। প্রকৃতির এই পিছিয়ে পড়া যেন আমাদের জীবনকেও এক অদৃশ্য নিয়মে পিছিয়ে দিচ্ছে। আমরা সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারছি না, বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারছি না। আর সেই অক্ষমতার ভারে আমাদের মন ভারাক্রান্ত হয়, ছোট ছোট হতাশার ঢেউ এসে হৃদয়কে আন্দোলিত করে। যাপিত জীবন এখন শীতের সকালের মতো—কুয়াশায় ঢাকা, ধূসর। সম্ভাবনার সোনালি আলো ক্রমশ ম্লান হয়ে যায়। দিন দিন চাওয়ার তালিকা ছোট হয়ে আসছে, আর সেই সঙ্গে সংকুচিত হচ্ছে চলার পথও। পরিচিতজনেরা দূর-দূরান্তে নিজেদের জীবনের আলো খুঁজে নিয়েছে। আর আমি? নিজের আয়নায় প্রতিফলিত চিত্র দেখে মনে হয়, এক জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়া অগোছালো সৈনিক। তবুও এই হতাশার কালো মেঘের ভেতরেই কোথাও একটা আশা সুপ্ত অবস্থায় লুকিয়ে থাকে। মনে হয়, জীবন তো একটা চলমান নদীর মতো—একে আক্ষেপ আর হতাশার আশায় থামিয়ে রাখা যায় না। শীতের সকাল যেমন বিবর্ণ, তবু তা দুপুরের রোদে আলোকিত হয়। আবার সেই আলো হারিয়ে বিকালের ঠান্ডা ছুঁয়ে, শেষে রাতে মিলিয়ে...