Skip to main content

বিচ্ছিন্ন আলাপ- ৪

 জীবনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে মানুষ এক ধরনের নিভৃততা খোঁজে। যেখানে নেই বাহিরের কোলাহল কিংবা কটুবাক্যের গুঞ্জন। এই নিঃসঙ্গতা যেন এক বিবর- বাহ্যদৃষ্টিতে অন্ধকার, কিন্তু তার গভীরে লুকানো থাকে আত্মজিজ্ঞাসার আলো।


অনেকে একে ভয় পায়, ভাবে নিঃসঙ্গতা এক পিশাচ যা গিলে ফেলে জীবনের রঙিন দিনগুলো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, এই একাকীত্ব আমাদের মধ্যে সংযম গড়ে তোলে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ, চিন্তার গভীরতায় ডুব দেওয়ার সুযোগ এনে দেয় এই নিভৃত সময়।


জীবনের পথে যখন কণ্টক আসে- সমস্যা, কষ্ট, অপমান- তখন এই নিঃসঙ্গতা আমাদের শিখিয়ে দেয় কীভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে হয়। বাইরের জগতের কটুভাষণ আমাদের আহত করলেও, ভিতরের অম্লান শান্তি আমাদের রক্ষা করে।


কখনো কখনো এই একাকীত্ব হয়ে ওঠে কুহেলিকার মতো। ভিতরের রহস্যময় অরণ্যে হেঁটে যেতে হয় নিজের অস্তিত্বের খোঁজে। তখন আমরা হয়ে যাই মরুচারী, নির্জন মরুভূমিতে পথ খুঁজতে থাকা ক্লান্ত যাত্রী।


এই যাত্রায় হৃদয়ে জন্ম নেয় এক চাতক অপেক্ষা—যে শুধু একফোঁটা আত্মজল খুঁজে ফিরছে। সেই জল, যা আমাদের জাগিয়ে তোলে, ভাবায়, আবার আশাবাদী করে তোলে।

এমন নিঃসঙ্গতাই আমাদের তৈরি করে—একজন গভীর অনুভবসম্পন্ন মানুষ হিসেবে, যার হাসি হয়ত অনুচ্চারিত, কিন্তু সেই অম্লান

Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দি চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

প্রতীক্ষা

  আমি দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক সেখানেই যেখানে তুমি শেষবার দেখে গিয়েছিলে। নড়বড়ে মন তোমার— কাছে আসো, আবার ক্ষণিকেই দূরে সরে যাও। এমনটা কি ঠিক হবার ছিল? তুমি হয়তো হেঁটে যাবে সেই পথেই, হয়তো এড়িয়ে যাওয়ার গল্প আরও ভিড় জমাবে। হয়তো স্মৃতিগুলো অপুষ্টিতে ভুগবে, ঘুরে ফিরবে রাস্তায় রাস্তায়— এক মুঠো সময়ের জন্য। সে সময় হবে কি তোমার?

নাম না জানা কোন এক গল্প।

১৪ তারিখ, শুক্রবার। ছুটির দিনে কিছুটা ফাঁকা শহরে একা একা হাঁটছে আপন। শাখারি বাজারের সরু গলি দিয়ে যদিও হেঁটে যাওয়া খুব সহজ কাজ না তারপরও ছুটির দিন আর রোজার দিন হওয়াতে তার সাথে দেশের চলমান অস্থির পরিবেশে কেউ সুস্থিরভাবে বাইরে বের না হবার কারণেই হয়ত লোকজন এখানে এখনও কম।এই পরিস্থিতিতে হাঁটতে হাঁটতে একটা শাখা আর সিদুরের দোকানের সামনে দাঁড়াল আপন। ছোট্ট একটা দোকান কিন্তু সাজানো গুছানো আর সেখানে পরিপাটি সেজে বিশাল দাড়ির সমাহার নিয়ে দোকানের মালিক বসে আছে। লম্বা দাড়ির দিকে চোখ বুলাতে মনে হলো নানান রঙের বাহারে বাহারিত হইয়া আছে তার লম্বা দাড়ি। ঐতিহ্য কে ধরে আর ধারণ করে রাখার চেষ্টা, রঙের ঐতিহ্য, হোলির রং। কিন্তু প্রশ্ন হলো অনেক চাওয়ার পরেও কেউ কিছু ধরে রাখতে পারছে কি? আস্তে আস্তে হাত ফসকে কত কিছু বেরিয়ে যাচ্ছে সেই খেঁয়াল আছেই বা কজনের?  সে যাই হোক এখানে না আসলে আজকে যে হলি ছিলো তা বুঝত না সে।  এখনও যে এই শহরে একটু রং মৃদু বাতাসে উড়ে বেড়ায় তা এখানে না আসলে ইনস্টার রিল দেখে বুঝে নিতে হত। চারদিকে সারা সকাল আর দুপুরের ব্যস্ত রং ক্লান্ত হয়ে ঝিমুচ্ছে এখানে সেখানে রাস্তায় বা রাস্ত...