জীবনের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে মানুষ এক ধরনের নিভৃততা খোঁজে। যেখানে নেই বাহিরের কোলাহল কিংবা কটুবাক্যের গুঞ্জন। এই নিঃসঙ্গতা যেন এক বিবর- বাহ্যদৃষ্টিতে অন্ধকার, কিন্তু তার গভীরে লুকানো থাকে আত্মজিজ্ঞাসার আলো।
অনেকে একে ভয় পায়, ভাবে নিঃসঙ্গতা এক পিশাচ যা গিলে ফেলে জীবনের রঙিন দিনগুলো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, এই একাকীত্ব আমাদের মধ্যে সংযম গড়ে তোলে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ, চিন্তার গভীরতায় ডুব দেওয়ার সুযোগ এনে দেয় এই নিভৃত সময়।
জীবনের পথে যখন কণ্টক আসে- সমস্যা, কষ্ট, অপমান- তখন এই নিঃসঙ্গতা আমাদের শিখিয়ে দেয় কীভাবে নিজেকে শান্ত রাখতে হয়। বাইরের জগতের কটুভাষণ আমাদের আহত করলেও, ভিতরের অম্লান শান্তি আমাদের রক্ষা করে।
কখনো কখনো এই একাকীত্ব হয়ে ওঠে কুহেলিকার মতো। ভিতরের রহস্যময় অরণ্যে হেঁটে যেতে হয় নিজের অস্তিত্বের খোঁজে। তখন আমরা হয়ে যাই মরুচারী, নির্জন মরুভূমিতে পথ খুঁজতে থাকা ক্লান্ত যাত্রী।
এই যাত্রায় হৃদয়ে জন্ম নেয় এক চাতক অপেক্ষা—যে শুধু একফোঁটা আত্মজল খুঁজে ফিরছে। সেই জল, যা আমাদের জাগিয়ে তোলে, ভাবায়, আবার আশাবাদী করে তোলে।
এমন নিঃসঙ্গতাই আমাদের তৈরি করে—একজন গভীর অনুভবসম্পন্ন মানুষ হিসেবে, যার হাসি হয়ত অনুচ্চারিত, কিন্তু সেই অম্লান।
Comments
Post a Comment