Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2022

কথোপোকথন ২

 : আপনি ঠিক আছেন তো? বাসের জানালার পাশে বসা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল শুভ। মেয়েটি হ্যা না কিছু বলল না। এখন করো সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করছে না মেয়েটির। পাশে বসা ছেলেটিকে বেশ নাছোড়বান্দা মনে হচ্ছে। এইসব ছেলেদের নিয়ে এক ঝামেলা। মেয়েদের দেখলেই গায়ে এসে পড়ে কথা বলতে।  : আমি ঠিক আছি। বিরক্তি চেপে বলল নিতা।  : কাদছেন কেন? কোন সমস্যা? : সমস্যা নাই। খুশিতে কান্দি।  শুভ নীতুর কথায় বেশ মজা পেল। শুভ আগে মেয়েদের সাথে কথা বলত না। কিন্তু কেউ কাদতে দেখলে বসে বসে দেখে চুপ করে থাকা যায় না। : খুশিতে কেউ কাদে না। হাসে। : আমি কাদি। : আপনি ভুল করছেন। : আচ্ছা। তাতে আপনার কি? : আমার কিছুই না। তবে কারো কান্না দেখতে পারি না। : দেখতে কে বলছে। অন্য কোথাও গিয়ে বসুন। বাসে পর্যাপ্ত সিট ফাঁকা আছে। শুভ গেলো না। মেয়েটিকে একা ছেড়ে তার যেতে ইচ্ছা করছে না। তাছাড়া মেয়েটির শরীর থেকে শিউলী ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। ভালো লাগছে শুভর। : কোথায় যাবেন আপনি? : তাতে আপনার দরকার। : বলুন না। রেগে যাচ্ছেন কেন? : আমার কথা বলতে ইচ্ছা করছে না তাই। : কি করতে ইচ্ছা করছে? কাদতে? : জ্বী। : আমি কাদাতে আসিনি। হাসাতে এসেছি।...

দূষণ

 এই শহরের কর্ণকুহরে বাজে যান্ত্রিকতার গান, এই শহরের রাজপথে চলে শকুন, ঠুকরে খাচ্ছে প্রাণ। এই শহরের রাস্তা দূষিত অনেক গাড়ির চাপে, এই শহরের বাতাস দূষিত, উন্নয়নের নামে।। এই শহরে পানি দূষিত, বুড়িগঙ্গার হাঁসফাঁস, এই শহরে খাদ্য দূষিত, মৃত নদীর উপহাস। এই শহরে গাছ নেই, আড়াল হচ্ছে সবুজ,  ভোরের ঘাসের শিশির মাড়িয়ে, বসতি বাড়ছে রোজ।। এই শহরে চাঁদের আলো কৃত্রিম আলোয় পূর্ণ, চোখ ধাঁধানো আলোর মাঝে, সবই যেন কেমন শূণ্য। এই শহরে ঘামে ভেজা শরীর, হারিয়ে যাচ্ছে ছায়া মায়াবী এই শহর থেকে হারাচ্ছে সব মায়া।। এই শহরে বিশাল আকাশ, বারান্দার গ্রীলে বন্দী একাকীত্ব আর ডিপ্রেশানে বাড়ছে কেবল সন্ধি।।

শেষ কথা

  : আপনি আমার কষ্টটা বুঝতে পারেন নি;  আধো মুখে বলে উঠল কাদম্বিনী, আমি তাকে ডাকি মেঘমালা বলে;  মনের আকাশে আমার শুধু তার উড়াউড়ি। ছায়ার মুখ ডাকা শরীরে কি মায়া,  দূর নিকটের সায়ারে পড়ছে তার পুলকিত ছায়া। : বুঝতে পেরেছি বলেই সরে এসেছি উদাস ভঙ্গিতে বলে ঊঠলাম আমি। দুটি সাদা বক ডানা ঝাপটে উড়ে গেলো দুদিকে মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছা করে,  তারা আবার এক হবে বা তাদের কি আবার দেখা হবে?  :আচ্ছা মনে রাখবেন আমায়? মুখটা বের করে জানতে চাইলে তুমি। আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তোমার খুঁজে,  ফিরে আসতে একটু সময় লাগল,  উত্তরটা দিতে পারিনি তোমায়। কি ই বা বলতাম তোমায় বলো?  মনে সে যে রাখার তোমাকে আমি রেখে দিয়েছি, মুখ দিয়ে তাই আর বের করে আনতে পারিনি। প্রসঙ্গ পালটে বলে উঠলাম... :সুন্দর না এই মুহূর্তটা?   বিচ্ছেদের মুহুর্ত এত সুন্দর হয় বা হতে পারে কোথায় পড়েছ বা দেখেছো?  :চিন্তা করছি এই মুহূর্তটা মনে রেখে দিবো। তোমার হাতের স্পর্শ আমি সেদিন পেয়েছিলাম; পেয়েছিলাম তোমার ঠোঁটের উষ্ণতা। সেইবেলা আকাশে চাঁদ ছিলো, বাতাসে শিউলি ঝরা গন্ধ ছিলো,  তোমার যাবার তাড়া ...