Skip to main content

একাকীত্ব

 সহজ, সরল, সাধারণ এর মধ্যে থেকে সুন্দর একটা জীবন যাপিত করার ইচ্ছা থাকলেও সবসময় সবকিছু তেমনভাবে করা হয়ে উঠেনা। সীমাবদ্ধতার আকাশ জুড়ে ছোট ছোট সীমাবদ্ধতা জড়ো হয়ে চলে আর বেড়ে চলে জটিলতা। আশপাশের বাতাস কেমন করে সংশয়ের দোলনায় দুলতে থাকে। প্রকাশ করা যায়না ভালো না থাকার কথা আর ভালবাসতে না পারার বা পাবার ব্যথা। 


মনকে সংবরণ করতে হয়, হাত থেমে যায় আর স্থির হয়ে যায় চ্যাট বক্সের প্রিয় মানুষের সাথে জমতে থাকা আলাপ। তারপরও একটা জীবন কেমন করে এগিয়ে যায় সেটা একটা রহস্যের কথা থাকলেও রহস্য না থাকলে জীবন অচল। আর তাই বলেই হয়ত রহস্য উদঘাটনের এক সুপ্ত বাসনায় আক্রান্ত হয়ে জীবন তরী বয়ে বেড়াতে হয়। কতটুকু মজা পেলাম আর কতটুকু দিয়ে গেলাম সেটার হিসাব নিকাশ বের করার আগেই ফুরিয়ে যায় সময়। হিসাব লেখা থাকে শূন্য শব্দে একাকী এক চারদেয়ালে। 


অনেকের মতে একাকীত্ব এক বিলাসিতা। সাড়ে সতেরো কোটির দেশে একটা প্রাণ একা থাকতে পারেনা বা একা থাকতে চায় বলেই থাকে। কিন্তু ভেবে দেখলে দেখা যায় কে একা না? একাকীত্ব এমন এক জিনিস যা হুট করে মনের খুলে রাখা জানালার ফাঁক দিয়ে মনের মধ্যে ঢুকে পড়ে। চাইলেই বের করে দেওয়া যায়না তবে যখন একাকীত্বের অনুভব হবে তখন উদ্ভাবিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়তবা আপনি আপনার সেই একাকীত্ব ঘুচানোর একটা পথ বের করে রাখতে পারেন। আর অপশন না থাকলে একাকীত্ব একটা নিত্যভ্যাসে পরিণত হয়। যেমনটা হয়েছে আমার বা আমার মতো অনেকের। 


তো রুমির একটা বিখ্যাত উক্তি আছে যেটা তার বই ‘The Forty Rules of Love‘ এর মধ্যে তিনি বলে গেছেন। আর সেটা হলো 


"Loneliness and solitude are two different things. When you are lonely, it is easy to delude yourself into believing that you are on the right path. Solitude is better for us, as it means being alone without feeling lonely." 

 

তো মাঝে মধ্যে একাকীত্বের প্রবল থাবা থেকে বের হয়ে Solitude অবস্থায় যাওয়ার চেষ্টা করি আজকাল। অত্যন্ত ঋণাত্বক আধানে চারপাশ ভরা আর তাই চার্জ নিতে গেলে মন আর মনন দুইটাই কেমন মনমরা আর নির্জীব হয়ে আসে।কান শান্তি পাবে এমন কথা শোনা হয়না বা চোখ শান্তি পাবে এমন জিনিস দেখা হয় না। ভালো থাকার প্রক্রিয়ায় ভালো একটা পরিবেশ থাকা তাই জরুরি আর  তাই ধনাত্মক আধানের উৎস খুঁজে যাওয়া আর চলা নিরন্তর। 


মাঝে মাঝে মনে হয় সমস্যা থেকে প্রস্থান এর মাঝে সমস্যার সমাধান নাই। মাঝে মাঝে কিছু দূরত্ব এমন থাকে যার পরিসীমা হিসাব করলে অনেক হলেও দূরত্ব ঠিক গুচানো যায়না। তাই মাঝে মাঝে সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সমাধান বের করে নিতে হয়। তাইলেই মনে হয় মুক্তি; মুক্তি একাকীত্ব থেকে, মুক্তি জীবন থেকে। 


কিন্তু পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যাবে জীবন থেকে পাওয়া মুক্ত মানুষের সংখ্যা খুব বেশী না। 

Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দী চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

আপনের দিনগুলি

  (তৃতীয় পর্ব) রাত অনেক, প্রচণ্ড শীত বাইরে। কনকনে শীতল হাওয়া বইছে। ঘুম আসছে না আপনের চোখে। বাসার নীচে, কাছাকাছি কোথাও হতে ট্রাক থেকে ইট নামানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। এই শহর কখনো নীরব হয়না, রাতেও না। এই শহরের দেওয়ালগুলো কখনও নীরব শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। বিরামহীন শব্দের ভারে শ্রান্ত তাদের দাঁড়িয়ে থাকা। মাঝখানে ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো সে। সেখানেও শীত ছিলো তবে শহরের মতো কোলাহল ছিলো না। আর কোলাহল এর অভাবে সেখানে শীতের মাত্রা আরও ভারী, নিঃশব্দের মাত্রা আরও প্রকট। টিনের চালে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ কানে আসত। কখনও দূর থেকে শিয়ালের ডাক, আর সেই ডাকে হঠাত জেগে উঠা গৃহে পালিত হাঁসের ভয় পাওয়া আর্তনাদ। ঘুম জড়িয়ে আসত চোখে।  আজ আপনের চোখে ঘুম নেই। তরীর কথা মনে পড়ছে না তো? তরীর কথা মনে না পড়লেও, স্মৃতিগুলা মনে হয় এই শীতের রাতেও লেপের উষ্ণতা নিয়ে ভর করতে চায় তার উপর। বিছানা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গিয়ে গ্রীলের বাইরে চোখ রাখল আপন।  এভাবেই দিনের সাথে সাথে রাত কেটে যাচ্ছে তার। কিছুটা ঘোরের মধ্যে, কিছুটা ঘোরের বাইরে। বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। ম...

আপনের দিনগুলি

  শীত শেষ। দিন দশেকের কাপুনিতে শীত যেন তার সর্বস্ব দিয়ে গেছে। এখন যা আছে বা যা অনুভূত হচ্ছে, তা হলো শীতকে জিইয়ে রাখার এক অদ্ভুত তাড়না। একসময় Winter is coming বললে একটা গম্ভীর আবহ তৈরি হতো। এখন গরমকাল আসার কথাতেই মানুষের হৃদয় কেঁপে উঠে। যেমনটা আজকাল প্রায়ই কেঁপে উঠে, ঘুমের মধ্যে কিংবা জেগে থাকতেই হঠাৎ করে বিল্ডিং কেঁপে উঠে; ইদানীং ভূমিকম্প হচ্ছে খুব।  গরমকাল মানেই এখন প্রচণ্ড গরম।  উত্তপ্ত চুলার ওপর ভাত যেমন ফটফট শব্দে ফুটতে থাকে, গরমের দিনে শরীরটাও তেমনই সিদ্ধ হতে থাকে। পার্থক্য শুধু এই, এখানে শব্দ শোনা যায় না। সবকিছু ভেতরে ভেতরে ঘুমরে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাস চলে এলো। বারো মাসের এক বছরে এই মাসটা আপনের বরাবরের পছন্দের। প্রথমত, মাসটা ছোট। দ্বিতীয়ত, এটা ভালোবাসার মাস, যুগলবন্দী হবার মাস, সরস্বতী পূজার মাস, ভাষা শহীদের মাস, বইমেলার মাস। আর তরীর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মাসও বটে। কিন্তু এই বছরটা কেমন যেন ব্যতিক্রম। শুভ পঞ্চমীর তিথি জানুয়ারিতে পড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি আর সরস্বতী পূজার মাস হলো না। বইমেলাও হচ্ছে না। আরও অনেক কিছুই যেন হলো না। এই মাসটা ক্রমে ‘না-হবার মাস’ হয়ে উঠছে...