Skip to main content

Sarvam Maya — সবকিছুই মায়া

 কিছু সম্পর্ক প্রণয় বা পরিণয়ে পরিণত হওয়ার জন্য তৈরি হয় না, তবু তারা আমাদের জীবনে এসে কিছুটা সময় থেকে গিয়ে অনেকটা সময়ের রেশ রেখে যায়। মায়া থাকে সাথে থাকে টান।

সবসময় সরল জিনিসই দেখতে ভালো লাগে। যেগুলো খুব জটিল কোনো বক্তব্য দেয় না, কিন্তু দেখার পর মনে একটু শান্তি রেখে যায়। থাকে একটু ভালো লাগা বা একটু গুড ভাইব। এই কারণেই হয়তো Sarvam Maya সিনেমাটাও আমার ভালো লেগেছে। তাছাড়া প্রেমাম দেখার পর থেকেই নিভিন পাউলি আমার পছন্দের অভিনেতাদের একজন। পরে তার করা ওম শান্তি ওসানা, ব্যাঙ্গালোর ডেইজ, নীরাম, বা এইরকম আরও কিছু মুভি আছে যা ভালো লেগেছে। তার অভিনয়ের মধ্যে একটা স্বাভাবিকতা আছে; অতিরঞ্জন নেই, খুব সাধারণ অথচ বিশ্বাসযোগ্য।

“Sarvam Maya” সংস্কৃত এই শব্দগুচ্ছের অর্থ, সবকিছুই মায়া

ভারতীয় দর্শনে “মায়া” শব্দটা শুধু ভ্রম বা বিভ্রম বোঝায় না। বরং এটি এমন এক বাস্তবতার ধারণা, যাকে আমরা সত্যি বলে ধরে নিই, কিন্তু সময়ের সাথে বুঝতে পারি আসলে তার অনেকটাই ছিল আমাদের অনুভূতি, আশা আর কল্পনার তৈরি।

ছোটবেলার একটি ঘটনার পর ব্রাহ্মণ প্রভেন্দু ধীরে ধীরে নাস্তিক হয়ে যায়। বিশ্বাসের জায়গাটা তার কাছে শূন্য মনে হতে শুরু করে। কিন্তু জীবনের এক বাঁকে এসে সে আবার পুরোহিতের ভূমিকায় ফিরে যায় আর সেখান থেকে ঘটনা প্রবাহে আসে ভূত তাড়ানোর কাজে। সেখানেই তার পরিচয় হয় এক অদ্ভুত উপস্থিতির সঙ্গে।

সেই ভূতের নাম Delusion (Delulu), অর্থাৎ মায়া

এই মায়ার সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে প্রভেন্দুর জীবনে এক অদ্ভুত সম্পর্ক তৈরি হতে থাকে। প্রথমে অবিশ্বাস, তারপর অভ্যাস, আর ধীরে ধীরে এক ধরনের অদৃশ্য টান। এমন এক সম্পর্ক, যেটা বাস্তবে হওয়ার কথা নয় তবুও কোনোভাবে হয়ে ওঠে। এই জায়গাটাই সিনেমাটাকে একটু অন্যরকম করে তোলে।

একদিকে এমন এক সম্পর্ক, যা পুরোপুরি ডেলিউশনাল বা বাস্তবতার বাইরে। অন্যদিকে বাস্তব জীবনে নতুন করে কিছু গড়ে তোলার সম্ভাবনা। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রভেন্দুর ভেতরে একটা নীরব টানাপোড়েন চলতে থাকে।

বাস্তব জীবনেও এমনটা প্রায়ই দেখা যায়।

কিছু সম্পর্ক আছে যেগুলো শুরু থেকেই অসম বা অসম্ভব। তবু সেখানে যখন মায়া জড়িয়ে যায়, তখন একটা অদৃশ্য টান তৈরি হয়। মানুষ সামনে এগিয়ে যেতে চায়, নতুন জীবন গড়তে চায় কিন্ত তবু কোথাও একটা পিছুটান থেকে যায়। কেউ নীরবে সেই টান সহ্য করে নেয়, আবার কখনো সেই টান অন্য কারও জীবনকেও ছুঁয়ে যায়।

সিনেমাটির আরেকটা বড় শক্তি হলো এর পরিবেশ। সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য, শান্ত আবহ, আর খুব সরল একটা গল্প বলার ভঙ্গি। যেটা দেখার সময় মনে হয় গল্পটা ধীরে ধীরে নিজের মতো করে খুলে যাচ্ছে।

যারা শান্ত, মনোরম দৃশ্যের সঙ্গে একটু ভিন্নধর্মী কিন্তু সরল গল্প দেখতে পছন্দ করেন, তারা চাইলে অবশ্যই Sarvam Maya দেখে নিতে পারেন।

তো মুভির একটা কথা দিয়েই শেষ করা যাক,

“Sometimes we can only blame the situation, not the person. If someone walks out of your life it's important to keep good wishes. No anger, no grudges, wishing only the best for them. It's not easy but we get healed just by being nice with them.”



Comments

Popular posts from this blog

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দী চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।

আপনের দিনগুলি

  (তৃতীয় পর্ব) রাত অনেক, প্রচণ্ড শীত বাইরে। কনকনে শীতল হাওয়া বইছে। ঘুম আসছে না আপনের চোখে। বাসার নীচে, কাছাকাছি কোথাও হতে ট্রাক থেকে ইট নামানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। এই শহর কখনো নীরব হয়না, রাতেও না। এই শহরের দেওয়ালগুলো কখনও নীরব শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। বিরামহীন শব্দের ভারে শ্রান্ত তাদের দাঁড়িয়ে থাকা। মাঝখানে ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো সে। সেখানেও শীত ছিলো তবে শহরের মতো কোলাহল ছিলো না। আর কোলাহল এর অভাবে সেখানে শীতের মাত্রা আরও ভারী, নিঃশব্দের মাত্রা আরও প্রকট। টিনের চালে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ কানে আসত। কখনও দূর থেকে শিয়ালের ডাক, আর সেই ডাকে হঠাত জেগে উঠা গৃহে পালিত হাঁসের ভয় পাওয়া আর্তনাদ। ঘুম জড়িয়ে আসত চোখে।  আজ আপনের চোখে ঘুম নেই। তরীর কথা মনে পড়ছে না তো? তরীর কথা মনে না পড়লেও, স্মৃতিগুলা মনে হয় এই শীতের রাতেও লেপের উষ্ণতা নিয়ে ভর করতে চায় তার উপর। বিছানা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গিয়ে গ্রীলের বাইরে চোখ রাখল আপন।  এভাবেই দিনের সাথে সাথে রাত কেটে যাচ্ছে তার। কিছুটা ঘোরের মধ্যে, কিছুটা ঘোরের বাইরে। বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। ম...

আপনের দিনগুলি

  শীত শেষ। দিন দশেকের কাপুনিতে শীত যেন তার সর্বস্ব দিয়ে গেছে। এখন যা আছে বা যা অনুভূত হচ্ছে, তা হলো শীতকে জিইয়ে রাখার এক অদ্ভুত তাড়না। একসময় Winter is coming বললে একটা গম্ভীর আবহ তৈরি হতো। এখন গরমকাল আসার কথাতেই মানুষের হৃদয় কেঁপে উঠে। যেমনটা আজকাল প্রায়ই কেঁপে উঠে, ঘুমের মধ্যে কিংবা জেগে থাকতেই হঠাৎ করে বিল্ডিং কেঁপে উঠে; ইদানীং ভূমিকম্প হচ্ছে খুব।  গরমকাল মানেই এখন প্রচণ্ড গরম।  উত্তপ্ত চুলার ওপর ভাত যেমন ফটফট শব্দে ফুটতে থাকে, গরমের দিনে শরীরটাও তেমনই সিদ্ধ হতে থাকে। পার্থক্য শুধু এই, এখানে শব্দ শোনা যায় না। সবকিছু ভেতরে ভেতরে ঘুমরে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাস চলে এলো। বারো মাসের এক বছরে এই মাসটা আপনের বরাবরের পছন্দের। প্রথমত, মাসটা ছোট। দ্বিতীয়ত, এটা ভালোবাসার মাস, যুগলবন্দী হবার মাস, সরস্বতী পূজার মাস, ভাষা শহীদের মাস, বইমেলার মাস। আর তরীর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মাসও বটে। কিন্তু এই বছরটা কেমন যেন ব্যতিক্রম। শুভ পঞ্চমীর তিথি জানুয়ারিতে পড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি আর সরস্বতী পূজার মাস হলো না। বইমেলাও হচ্ছে না। আরও অনেক কিছুই যেন হলো না। এই মাসটা ক্রমে ‘না-হবার মাস’ হয়ে উঠছে...