Skip to main content

ইনমেসিওনান্তে

 মানুষ তার জীবদ্দশায় এমন কিছু মানুষের সন্ধান পায় যাদের সাথে হয়ত দেখা গেলো তাদের কোন সাক্ষাতের সম্ভাবনা নেই কিন্ত তারা কোন না কোনভাবে জীবনকে প্রভাবিত করে যায়। তাদের প্রভাব অনুভব করা যায় দূরত্বের আড়াল থেকেও। এমন মানুষদের নিয়ে কিছু না লিখে রাখলে বা তারা যে কত আনন্দের মুহুর্ত আমাদের মানুষজনকে উপহার দিয়ে যাচ্ছে তা লিপিবদ্ধ করে না রাখলে তাদের এই অবদানের কথা অস্বীকার রয়ে যাবে। তাই মাঝে মাঝে acknowledge করতে হয় আর লিখে রাখতে হয় তাদের কথা।  


তো আপনের জীবনে খেলার জগৎ একটা বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে। নিজে ক্রিকেট ভালো খেলতো বলে ক্রিকেটের প্রতি তার বিশেষ দূর্বলতা কিন্ত ফুটবল ভালো না খেললেও ফুটবল দেখতে ভালো লাগে তার। আর এই দুই জগতেই কিছু মানুষ আছে যাদের প্রতি তার নিঃশর্ত ভালোবাসা। হ্যাঁ, ভালোবাসাই বোধহয় সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ এখানে ব্যবহার করার জন্য। তাদের মধ্যে দুইজন দুই জায়গাতে নীরবে-নিভৃতে তাদের খেলার দ্বারা, তাদের শান্ত প্রকৃতির স্বভাব দ্বারা নিজেদের নাম এমনভাবে রচনা করে গেছেন যা পাঠ করে শেষ করতে সময়ের আয়ু শতাব্দী পেরিয়ে যাবে। ক্রিকেটে শচীন টেন্ডুলকার আর ফুটবলে লিওনেল মেসি হলো সেইরকম দুজন মানুষ, যাদের খেলা ও স্বভাব দ্বারা আপন বেশ প্রভাবিত। 


তো দেখতে দেখতে আরেকটা ফুটবল বিশ্বকাপ চলে আসলো। ছোটবেলা থেকেই আপন আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। তার বাবা কলেজের শিক্ষক হওয়াতে প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকা আসত তাদের বাড়িতে। তখনকার দিনে স্মার্ট ফোন বা ক্যাবল টিভির অভাবে পত্রিকার সংবাদই ছিলো বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। তাছাড়া তৎকালীন পত্রিকাগুলোতে খবরও ছাপা হতো বেশী বেশী, এখন যেটার আধিক্য অনলাইনে বেশী। ফুটবল বিশ্বকাপ আসলেই প্রায় প্রতিদিনই বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হতো যেখানে বিশ্বকাপের ইতিহাস, বিশ্বজয়ীদের ইতিহাস ক্রমানুসারে ছাপা হতো। তখন থেকেই ম্যারাডোনার ইতিহাস আর তার খেলার ধরনের ব্যাপকতা পড়ে তাঁর প্রতি কেমন একটা দূর্বলতা কাজ শুরু করে দিলো। ম্যারাডোনার নামের পাশে উপাধি বসা শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় মনে শিহরণ জাগাত। তাঁর খেলা না দেখেও তাঁর কীর্তির কথা শুনে ম্যারাডোনা হয়ে গেলো আপনের ফুটবল দেবতা আর আর্জেন্টিনা পছন্দের ফুটবল দল। একটা মানুষ তার কলার দ্বারা কিভাবে কিংবদন্তী হয়ে উঠতে পারে সেটার অনুমান সেই ছোট বয়সে প্রথম উপলদ্ধি হয়েছিলো আপনের। 


তো প্রথম যেবার আপন ফুটবল বিশ্বকাপ দেখে প্রাইমারির গণ্ডি পার করেনি তখনও সে, ২০০২ সাল। ছোটবেলার চোখে আধাবোনা স্বপ্ন ছিলো আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতবে। কিন্ত চোখের স্বপ্ন মন অবধি পৌঁছাতে পারেনি সেবার। প্রথম রাউন্ড থেকেই সুইডেনের সাথে বাঁচা-মরার ম্যাচে ড্র করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। আপনের কান্না পেয়েছিলো সেদিন। ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা কি তাইলে আর বিশ্বকাপ নিতে পারবে না? তখন অবশ্য দলে ছিলো তখনকার ম্যারাডোনা খ্যাত ওর্তেগা আর লম্বা ঝাঁকড়া চুলের বাতিস্ততা। কিন্তু তারা পারেনি। 


সে যাই হোক ছোট মনে আঘাতের ঘা বেশীদিন থাকেনি। তবে যতই দিন এগিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের খবর সে সবসময়ই রাখত। এই প্রত্যাশায় যে, ম্যারাডোনার দেশে নতুন ম্যারাডোনা আসবে। তবে নতুন নতুন ম্যারাডোনা আসত আর এসে হুট করে হারিয়ে যেত। এরকম করতে করতে তারপর হুট করে একদিন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব উনিশ বিশ্বকাপ জিতে গেলো। আপনের মন আনন্দে ভরে উঠল। 


সেখান থেকেই গল্প শুরু আরেক নতুন ম্যারাডোনার। আর্জেন্টিনাকে যুবা বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে কাপ জিতিয়ে নিজেকে বিশ্বমঞ্চে এলান করলো মেসি, লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। গোল্ডেন বল আর গোল্ডেন বুট জয় করা নতুন ম্যারাডোনা আপনের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো। 


তারপর থেকেই পেপার ঘেঁটে, সবিস্তারে জেনে, তার ব্যাপারে আগ্রহ বেড়ে গেলো। রসারিওর দরিদ্র পরিবার থেকে গ্রোথ হরমোনের অভাবে ভোগা মেসিকে মানে ছোট মেসির খেলা দেখে এক ন্যাপকিনের মধ্যেই তাড়াহুড়া করে চুক্তি স্বাক্ষর করে তাকে তাদের একাডেমিতে নিয়ে নিলো ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা। তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে তার ফুটবল খেলার স্বপ্নকে জিইয়ে রাখতে সাহায্য করেছিল যে দল সে দলকেও দুহাত ভরে দিয়েছিলো, কোন কার্পণ্য করেনি সে। 


ফুটবলের আরেক বিস্ময় রোনালদিনহোকে হারিয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া আর পাশাপাশি একে একে ফুটবল বাজারের দামী খেলোয়াড়দের নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের গড়ে তোলা শক্তিশালী দলকে মোকাবিলা করার জন্য কোচ আর প্লেয়ার দুইটাই খুঁজছিলো বার্সেলোনা। তখনই অনূর্ধ্ব ফুটবলে নিজের জাত চিনিয়ে দেওয়া মেসি আর গার্দিওলা মিলে গড়ে তোলে সম্ভবত ইতিহাসের সেরা ভয়ংকর এক দল। 


টিকি-টাকা ফুটবলের ছন্দ, বলের ওপর অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ, ক্ষুদ্র পরিসরে অসম্ভব ড্রিবলিং, চোখ ধাঁধানো পাস, অবিশ্বাস্য গোল, সব মিলিয়ে ফুটবল যেন এক শিল্পে পরিণত হয়েছিল। মেসি সেই শিল্পের দক্ষ জাদুকর আর আমরা সম্মোহিত দর্শক। ছোট পায়ে তিড়বিড় করে এক এক করে বিপক্ষ দলের সবাইকে পাশ কাটিয়ে বল নিয়ে গোল করা মেসি যেনো আপন মনে শিল্পকলা বুনে চলে। রেশ থেকে যায়, কাটে না আর।


তবে মেসির গল্পটা কখনও সরলরৈখিক ছিল না। ক্লাব ফুটবলে সবকিছু জয়ের পরও জাতীয় দলের জার্সিতে তার নামের পাশে বড় এক অপূর্ণতা থেকে গিয়েছিল। ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা, প্রতিবারই শিরোপার কাছে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হয়েও দেশের হয়ে কিছু জিততে না পারার তকমা তাকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে বছরের পর বছর। সমালোচনা ছিলো দেশ এবং দেশের বাইরে। এমনকি একসময় জাতীয় দল থেকেই অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সে। সেদিন হয়তো অনেকেই ভেবেছিল গল্পটা এখানেই শেষ। কিন্তু গল্প কিছু পরাজয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করে না। মেসির গল্পও তেমনই। সে ফিরে এসেছিল। আর ফিরে এসে ধীরে ধীরে নিজের জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়গুলো পূর্ণ করতে শুরু করেছিল। 


প্রথমে কোপা আমেরিকা। তারপর ফিনালিসিমা। আর শেষ পর্যন্ত কাতার বিশ্বকাপ। ২০২২ সালের সেই ডিসেম্বর রাত শুধুমাত্র একটি ফাইনাল ছিল না। সেটি ছিল দুই দশকের অপেক্ষার সমাপ্তি। ছিল অসংখ্য ব্যর্থতার প্রতিশোধ। ছিল কোটি মানুষের বিশ্বাসের বিজয়। সেদিন যখন মেসি বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলেছিল, তখন মনে হয়েছিল ইতিহাস তার অসমাপ্ত বাক্যটি শেষ করেছে। মেসিকে দিয়েছে তার যোগ্য আসন। The New GOD of Fotball”


আসলে সে যতটা না আর্জেন্টিনার জন্য বিশ্বকাপ চেয়েছে তার চেয়ে বেশী চেয়েছে মেসির জন্য। মেসি বিশ্বকাপ জিততে পারে নাই এই অপবাদ তার খ্যাতির গায়ে কলংক হয়ে ঝুলবে সেটা সে কখনোই মেনে নিতে পারত না। আসলে কিসের কিছু ঘাটতি ছিলো দলটার মধ্যে। বার্সেলোনাতে যেমনটা স্বাচ্ছন্দ্যের মতোই নিজেকে মেলে ধরতে পারত মেসি নিজেকে, সেটা জাতীয় দলে যোগ্য সতীর্থের অভাবে পারা যাচ্ছিলো না। সুর, তাল, লয় আর গতির অভাবে একা একাই মেসি যতটুকু পারে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলো দলকে কিন্তু ফুটবল খেলায় এভাবে বুঝা বেশিদিন বয়ে নিয়ে যাওয়া যায়না। তারপর এলো পরিবর্তন। ম্রিয়মাণ মেসি থেকে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া জ্বল-জ্বল করা মেসি। ইয়াং কিছু খেলোয়াড় আর দীর্ঘদিনের বন্ধু ডি মারিয়া কে নিয়ে স্কালোনির দিকনির্দেশনায় মহাকাল জয়ের যাত্রায় মেসি জয়ী। সাথে সাথে জয়ী তাঁর বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীও। 

 

ফুটবলের ইতিহাসে আরও অনেক বড় খেলোয়াড় আসবে। নতুন রেকর্ড হবে, পুরোনো রেকর্ড ভাঙবে। মেসির গড়া শত শত রেকর্ড সব অক্ষুণ্ণ থাকবে না কিন্ত কিছু খেলোয়াড় থাকে যারা খেলার মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসে আমজনতার ভীড়ে, তাদের মনে মনে। এইযে মানুষের মনে মনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলার মাঝেই মানুষটা বড় হয়ে উঠে, তারা হয়ে ওঠে একটি সময়ের প্রতীক। মেসি ঠিক তেমনই একজন। তাই আপনের কাছে মেসি কোনো পরিসংখ্যান নয়, কোনো ট্রফির সংখ্যা নয়, কোনো বিতর্কের বিষয়ও নয়। মেসি একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের নাম। যে অধ্যায়ের শুরু রোসারিওর এক অসুস্থ শিশুকে নিয়ে। আর যার পরিণতি ফুটবল ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রে।

স্প্যানিশ অভিধানে একটা শব্দ যোগ করা হয়েছে ‘Inmessionante’- যার অর্থ দাঁড়ায় “The Perfect way to play Football"। কেউ নিজের নামের পাশে বিশেষণ যোগ করে আর কেউ নিজের নামকে বিশেষণ বানায়। এটাই ফুটবল বিশ্বে মেসির প্রভাব। এটাই মেসি। আজকে মেসির জন্মদিন। ফুটবলের আরেকটা বিশ্বকাপ চলছে। আবার জ্বলে উঠেছে সে। বিশ্বমঞ্চের এই আসরেই হয়ত মেসি ফুটবল বিশ্ব থেকে অবসরে যাবেন, তেমনি তার মতো করে ফুটবল থেকে অবসরে যাবে আপনের মতো অগণিত দর্শক। মেসি থাকুক বা না থাকুক ফুটবল থাকবে কিন্ত সেই বিশ্বে মেসি থাকবে সূর্যের মতো, যার নামে হবে উদয় আর অস্ত। 


(LM10)

....................................................................................................................................................


Comments

Popular posts from this blog

আপনের দিনগুলি

  (তৃতীয় পর্ব) রাত অনেক, প্রচণ্ড শীত বাইরে। কনকনে শীতল হাওয়া বইছে। ঘুম আসছে না আপনের চোখে। বাসার নীচে, কাছাকাছি কোথাও হতে ট্রাক থেকে ইট নামানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। এই শহর কখনো নীরব হয়না, রাতেও না। এই শহরের দেওয়ালগুলো কখনও নীরব শান্তির স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। বিরামহীন শব্দের ভারে শ্রান্ত তাদের দাঁড়িয়ে থাকা। মাঝখানে ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলো সে। সেখানেও শীত ছিলো তবে শহরের মতো কোলাহল ছিলো না। আর কোলাহল এর অভাবে সেখানে শীতের মাত্রা আরও ভারী, নিঃশব্দের মাত্রা আরও প্রকট। টিনের চালে গাছের পাতা থেকে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ কানে আসত। কখনও দূর থেকে শিয়ালের ডাক, আর সেই ডাকে হঠাত জেগে উঠা গৃহে পালিত হাঁসের ভয় পাওয়া আর্তনাদ। ঘুম জড়িয়ে আসত চোখে।  আজ আপনের চোখে ঘুম নেই। তরীর কথা মনে পড়ছে না তো? তরীর কথা মনে না পড়লেও, স্মৃতিগুলা মনে হয় এই শীতের রাতেও লেপের উষ্ণতা নিয়ে ভর করতে চায় তার উপর। বিছানা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গিয়ে গ্রীলের বাইরে চোখ রাখল আপন।  এভাবেই দিনের সাথে সাথে রাত কেটে যাচ্ছে তার। কিছুটা ঘোরের মধ্যে, কিছুটা ঘোরের বাইরে। বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। ম...

আপনের দিনগুলি

  শীত শেষ। দিন দশেকের কাপুনিতে শীত যেন তার সর্বস্ব দিয়ে গেছে। এখন যা আছে বা যা অনুভূত হচ্ছে, তা হলো শীতকে জিইয়ে রাখার এক অদ্ভুত তাড়না। একসময় Winter is coming বললে একটা গম্ভীর আবহ তৈরি হতো। এখন গরমকাল আসার কথাতেই মানুষের হৃদয় কেঁপে উঠে। যেমনটা আজকাল প্রায়ই কেঁপে উঠে, ঘুমের মধ্যে কিংবা জেগে থাকতেই হঠাৎ করে বিল্ডিং কেঁপে উঠে; ইদানীং ভূমিকম্প হচ্ছে খুব।  গরমকাল মানেই এখন প্রচণ্ড গরম।  উত্তপ্ত চুলার ওপর ভাত যেমন ফটফট শব্দে ফুটতে থাকে, গরমের দিনে শরীরটাও তেমনই সিদ্ধ হতে থাকে। পার্থক্য শুধু এই, এখানে শব্দ শোনা যায় না। সবকিছু ভেতরে ভেতরে ঘুমরে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাস চলে এলো। বারো মাসের এক বছরে এই মাসটা আপনের বরাবরের পছন্দের। প্রথমত, মাসটা ছোট। দ্বিতীয়ত, এটা ভালোবাসার মাস, যুগলবন্দী হবার মাস, সরস্বতী পূজার মাস, ভাষা শহীদের মাস, বইমেলার মাস। আর তরীর সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার মাসও বটে। কিন্তু এই বছরটা কেমন যেন ব্যতিক্রম। শুভ পঞ্চমীর তিথি জানুয়ারিতে পড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি আর সরস্বতী পূজার মাস হলো না। বইমেলাও হচ্ছে না। আরও অনেক কিছুই যেন হলো না। এই মাসটা ক্রমে ‘না-হবার মাস’ হয়ে উঠছে...

খামবন্দী মুহূর্ত

তোলা থাক মান-অভিমান, তোলা থাক বাক্সবন্দি কিছু স্বপ্ন, তোলা থাক রাজ্য জুড়ে তোমার নামে বয়ে যাওয়া মাতাল হাওয়া, তোলা থাক মরীচিকার বুকে ভেসে ওঠা তোমার অস্তিত্ব। তোলা থাক কলম, ফুরিয়ে যাক কালি, তোমার নামে লেখা ছোটগল্প, খামবন্দী চিঠির সারি। তোলা থাক গায়ে গা লাগানো, জ্যাম ঠেলে ছুটে চলা রিকশা, তোলা থাক অসমাপ্ত গানের লাইন, চোখে জমে থাকা নির্বাক কথামালা। তোলা থাক রাস্তার মোড়ে একটি নামের প্রতিধ্বনি— যেখানে সময় থমকে দাঁড়ায় তোমার অপেক্ষায়। তোলা থাক সবকিছু, তোলা থাক— যতদিন না জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর তোমার পদধ্বনিতে।