Skip to main content

Posts

২০২৫

  ভুলে যাওয়ার এক অদ্ভূত খেলা চলে জীবনভর।   মাঝে মাঝে না ভুলতে চাইলেও ভুলে যেতে হয় ভুলে থাকতে হয় কিছু জিনিস।  জগতের প্রতিষ্ঠিত নিয়মের বাইরে যদি যাওয়া না যায় তাইলে নিয়মের মধ্যে থেকে নিয়ম করে চলাই উচিত।  ভুলে যাওয়া উচিত কিছু জিনিস, তাতে জগতেরই মঙ্গল।   তো ২৫ হোক ভুলে যাওয়ার, নতুন করে নতুন রূপে ফিরে পাওয়ার। 

পৃথিবীটা গোল বলেই

  পৃথিবীটা গোল বলেই মানুষজন শুধু ঘুরে ,  তার মাথা ঘুরায়, স্থিরতা হারায়।  পৃথিবীটা গোল বলেই এক চক্রে বাঁধা জীবন,  পথ চলে, পথ ফিরে,  একি চেনা মোড়ে।  পৃথিবীটা গোল বলেই একই কক্ষপথে,  মন দাঁড়াতে চায়, হারাতে চায়, একই বাহুর কোলে। পৃথিবীটা গোল বলেই সময় আসে আবার ফিরে,  পুরনো স্মৃতির ছায়ায়, নতুন গল্প বুনে।  পৃথিবীটা গোল বলেই দূরের মানুষ কাছে আসে,  ভালোবাসে আবার দূরে সরে যায়।  পৃথিবীটা গোল বলে ভবিষ্যত আসে, অতীত থাকে,  হাত ধরে, হাত ছাড়ে, ঘোলাটে থাকে বর্তমান।  পৃথিবীটা গোল বলেই শেষ নয় কখনোই শেষ,  আবার কথা হবে, দেখা হবে। পৃথিবীটা গোল বলেই  শেষ আর শুরু একসাথে এসে মিশে। 

Between us

  Sometimes I just can only wish,   Aware of reality, Too distant to reach, To touch the actual soul,  Some limitations restrict us all.  There is a social wall of restriction, The stigma it brings forth, That restrains my moving hand, Stopping it from reaching you. I cannot touch you, I cannot hold you. You gaze at the crescent moon, Wonder blooming on your brow. It halts my moving lips, Longing to place a kiss. The collisions we share on this journey, The fleeting moments between us, Ignite a warmth within my soul— Yet still, I must restrain, Desire left to unfold.

বিচ্ছিন্ন আলাপ- ৩

দেখতে দেখতে অবশেষে শীত আসছে এই শহরে। যে শীত সাধারণত অক্টোবরের শেষ দিকে এসে জানান দিতে শুরু করে, সে শীত এখন নভেম্বরের শেষ প্রান্তে এসে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। প্রকৃতির এই পিছিয়ে পড়া যেন আমাদের জীবনকেও এক অদৃশ্য নিয়মে পিছিয়ে দিচ্ছে। আমরা সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারছি না, বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারছি না। আর সেই অক্ষমতার ভারে আমাদের মন ভারাক্রান্ত হয়, ছোট ছোট হতাশার ঢেউ এসে হৃদয়কে আন্দোলিত করে। যাপিত জীবন এখন শীতের সকালের মতো—কুয়াশায় ঢাকা, ধূসর। সম্ভাবনার সোনালি আলো ক্রমশ ম্লান হয়ে যায়। দিন দিন চাওয়ার তালিকা ছোট হয়ে আসছে, আর সেই সঙ্গে সংকুচিত হচ্ছে চলার পথও। পরিচিতজনেরা দূর-দূরান্তে নিজেদের জীবনের আলো খুঁজে নিয়েছে। আর আমি? নিজের আয়নায় প্রতিফলিত চিত্র দেখে মনে হয়, এক জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়া অগোছালো সৈনিক। তবুও এই হতাশার কালো মেঘের ভেতরেই কোথাও একটা আশা সুপ্ত অবস্থায় লুকিয়ে থাকে। মনে হয়, জীবন তো একটা চলমান নদীর মতো—একে আক্ষেপ আর হতাশার আশায় থামিয়ে রাখা যায় না। শীতের সকাল যেমন বিবর্ণ, তবু তা দুপুরের রোদে আলোকিত হয়। আবার সেই আলো হারিয়ে বিকালের ঠান্ডা ছুঁয়ে, শেষে রাতে মিলিয়ে...

বিচ্ছিন্ন আলাপ-২

উদয় কালের গন্ধ গড়াতে গড়াতে পড়ন্ত বেলায় এসে থামে, তারপর সূর্য পশ্চিমের কোলে হেলে পড়ে। গল্পের পৃষ্ঠায় ভাঁজ পড়ে, মাঝে মাঝে না শেষ করা সেই গল্পের গায়ে ধূলা জমে। সেই আস্তরণ সময়ের পাল্লায় ভারী হয়, গল্পের প্লট হয়ে যায় ফ্যাকাশে। এভাবেই এক সময়ের তরতাজা প্রাণ ফ্যাকাশে হয়ে যায়, হারিয়ে যায় গল্প আর… জীবন মানেই গল্প, আবার গল্প বলতে কিছুই নেই। তো হারিয়ে গেছি, বেঁচে আছি— আপাতত জরুরি খবর এটাই।

বিসর্জন

  বিসর্জন শব্দটার মধ্যে একটা লুকায়িত অর্জন আছে। কি অর্জন আর কিসের অর্জন সেটার মর্মার্থ কি সেটা আমি নিজেও জানিনা। তবে যখন জানি বিসর্জন শব্দের অর্থ ত্যাগ বা পরিত্যাগ তখন ছোটবেলার সেই ভাব- সম্প্রসারণ "ভোগে সুখ নাই ত্যাগেই প্রকৃত সুখ" তখন মনে হয় বিসর্জন শব্দের মহিমা আছে আর আছে তাৎপর্য। তো প্রশ্নটা হচ্ছে এক মানুষকে এক জীবনে কত কিছু কত সময়ে বিসর্জন দিতে হয়? তো যে নতুন করে আর নতুন রূপে নিজেকে রূপায়িত করতে চায় পুরাতন রূপের বিসর্জন দিয়ে তার সে চেষ্টার পথে বাঁধ দিয়ে পথ রুদ্ধ করা নিষ্প্রয়োজন। কেননা যেখানে দুই পক্ষকেই কিছু না কিছু বিসর্জন দিতে হয় সেখানে স্বার্থের সংঘাত নেই মনের সংঘাত থাকলেও।  তো পৃথিবীর সকল বিসর্জন হোক নতুন সুন্দর কিছু সৃষ্টির উপলক্ষ্য।  শুভ বিজয়া দশমী।

যাপিত জীবন

  একা একটা বিশাল পুকুরের সামনে একা বসে আছে আপন। সামনে বিস্তৃত আকাশ কিন্তু যে জায়গায় আপন বসে আছে সেখানে একটা বাগানবিলাস খুব আয়োজন করে ঝেঁকে বসে সামনের বিস্তৃততাকে একটু আড়াল করে রেখেছে ঠিক যেমন আড়াল করে রাখে নববধূ তার মুখ ঘুমটা দিয়ে। সন্ধ্যাকালীন সময় আর আশেপাশে কেউ নেই এমন এক পরিস্থিতিতে ঝিরঝির বৃষ্টির মাঝে চুপচাপ বসে থেকে জীবনের একটা সংজ্ঞা খুঁজার চেষ্টা তার। পুকুরের জলে তেলাপিয়া ছানার যেমন অস্থির নাড়াচাড়া তেমনটা অস্থির তার জীবন। তাই জীবনের সংজ্ঞা খুঁজতে গিয়ে বলা চলে একটু বেগ পেতে হচ্ছে তাকে।   জীবনের সংজ্ঞা টা আপন এখনো ঠিক স্থির করে দাড় করাতে পারেনি। আর তাই হয় তো একটা অস্থিরতার সুর নিয়ত আচ্ছন্ন করে রাখে তাকে। একা বলেই কি এই সুর ক্রমশ তাকে ঘিরে রাখে না একা থাকার জন্যই এই সুর সেটা নিরূপণ করার চেষ্টা তার। ঝির ঝির বৃষ্টি ক্রমশ বাড়তে বাড়তে এখন ঝুম বৃষ্টিতে পরিণত হয়েছে। ঘন পাতার ফাঁক গলে কিছু ফোঁটা এখন আপনের গায়ে লাগছে। তার মন্দ লাগছে না এমনভাবে ভিজতে তাই এই স্থান ছেড়ে বেরিয়ে যাবার চিন্তা মাথা থেকে বের করে দিল সে।  পরিস্থিতি মানুষকে স্বাভাবিক রাখে আবার অস্বা...