Skip to main content

Posts

নাম না জানা কোন এক গল্প।

 দিনকে দিন গরমের মাত্রা কেবল বেড়েই চলছে। মাথার উপর বট গাছের আকার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা করই গাছও সেই মাত্রা কমাতে পারছে না। মেরুদন্ড বেয়ে ঘাম কেবল প্রবাহিত হচ্ছে। আকাশে কালো মেঘের আস্তরণ আর তার ফাঁক ফোকর দিয়ে রোদের আলো গড়িয়ে পড়ছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর সামনে একা দাড়িয়ে আছে আপন। ভর্তি পরীক্ষার কারণে এখানে আসা। একটু ছায়া পেলে বসে যাবার চিন্তা তার কিন্ত রাস্তার দুধারে করই গাছের ছায়া দখল করে আছে পরীক্ষার্থীদের সাথে আসা অভিভাবকবৃন্দ। সকলের মুখে চিন্তার ছাপ। সব চিন্তা আর টেনশন ঘনীভূত হয়ে গরমের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আপনের বোনের মেয়ের পরীক্ষা আর সেই কারণেই তার এখানে আসা। পরীক্ষা চলাকালীন এই দেড় দুই ঘণ্টা কিছুই করার থাকে না শুধু অপেক্ষা করা ছাড়া। ঘড়ির কাঁটা কখন তার গন্তব্যে পৌঁছাবে সেটা ভাবতে ভাবতেই সময় এগিয়ে যায়। ঘড়ির কথা মনে পড়তেই আপন তার হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকাল। এখন সময় ১১.৪৫, তার মানে পরীক্ষা শুরু হতে আরও ১৫ মিনিট বাকি তারপর একঘন্টার পরীক্ষা। মোট সোয়া এক ঘন্টা তাকে অপেক্ষা করে কাটিয়ে দিতে হবে। চারপাশ তাকাল সে। মানুষের ভীড় চারপাশ জুড়ে। কেউ বসে আ...

The Midnight Library

  The Midnight Library তে নোরা সিড খুব ডিপ্রেসড একজন মহিলা ছিলেন। জীবনের সর্ব স্তরেই মনে হত সে না থাকলে পৃথিবীর কিছু আসত বা যাইত না। স্বপ্ন ছিলো তার অনেক কিছু করবার। প্রথম সে হতে চেয়েছিলো অলিম্পিক জয়ী সাঁতারু এবং ছোটবেলাতে সে তার কলেজের জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও ছিলো। কিন্ত হুট করে সাঁতার ছেড়ে দিলো সে। তারপর glaciologist হতে চাইল। মনের গ্লাসিয়ার বা আর্কটিক সাগরের বুকে জেগে থাকা জীবন্ত বরফের জীবনের রহস্য উদঘাটন করতে চেয়েছিলো। যখন সে জানলো এটাও তার দ্বারা হবে না তখন সে মনোযোগ মিউজিকে। একটা ব্যান্ড দলের স্বরচিত গান গাইত সে। কিন্ত প্যানিক এটাক আর ভাইয়ের সাথে তিক্ত সম্পর্কের কারণে এখান থেকেও সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলো না।। তারপর ফিলোসফি নিয়ে কিছুদিন শেষমেষ একটা বাদ্যযন্ত্রের দোকানে তাকে চাকরি করতে দেখা যায়। তার আফসোস অসংখ্য আর সেই আফসোসের ভীড়ে ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে পড়া জীবন তার পৃথিবীর বুকে বোঝা প্রতীয়মান হতে থাকল। এরই মধ্যে তার উপার্জনের শেষ সম্বল তার টিউশনও চলে যায়। ধরনীর বুকে খাবি খেতে থাকে সে, তার সেই প্রেক্ষিতে এক দিনের শুরু আর আরেক দিনের শেষ মুহুর্তে সে অনেকগুলা এ...

কথোপোকথন ২

 : আপনি ঠিক আছেন তো? বাসের জানালার পাশে বসা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল শুভ। মেয়েটি হ্যা না কিছু বলল না। এখন করো সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করছে না মেয়েটির। পাশে বসা ছেলেটিকে বেশ নাছোড়বান্দা মনে হচ্ছে। এইসব ছেলেদের নিয়ে এক ঝামেলা। মেয়েদের দেখলেই গায়ে এসে পড়ে কথা বলতে।  : আমি ঠিক আছি। বিরক্তি চেপে বলল নিতা।  : কাদছেন কেন? কোন সমস্যা? : সমস্যা নাই। খুশিতে কান্দি।  শুভ নীতুর কথায় বেশ মজা পেল। শুভ আগে মেয়েদের সাথে কথা বলত না। কিন্তু কেউ কাদতে দেখলে বসে বসে দেখে চুপ করে থাকা যায় না। : খুশিতে কেউ কাদে না। হাসে। : আমি কাদি। : আপনি ভুল করছেন। : আচ্ছা। তাতে আপনার কি? : আমার কিছুই না। তবে কারো কান্না দেখতে পারি না। : দেখতে কে বলছে। অন্য কোথাও গিয়ে বসুন। বাসে পর্যাপ্ত সিট ফাঁকা আছে। শুভ গেলো না। মেয়েটিকে একা ছেড়ে তার যেতে ইচ্ছা করছে না। তাছাড়া মেয়েটির শরীর থেকে শিউলী ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। ভালো লাগছে শুভর। : কোথায় যাবেন আপনি? : তাতে আপনার দরকার। : বলুন না। রেগে যাচ্ছেন কেন? : আমার কথা বলতে ইচ্ছা করছে না তাই। : কি করতে ইচ্ছা করছে? কাদতে? : জ্বী। : আমি কাদাতে আসিনি। হাসাতে এসেছি।...

দূষণ

 এই শহরের কর্ণকুহরে বাজে যান্ত্রিকতার গান, এই শহরের রাজপথে চলে শকুন, ঠুকরে খাচ্ছে প্রাণ। এই শহরের রাস্তা দূষিত অনেক গাড়ির চাপে, এই শহরের বাতাস দূষিত, উন্নয়নের নামে।। এই শহরে পানি দূষিত, বুড়িগঙ্গার হাঁসফাঁস, এই শহরে খাদ্য দূষিত, মৃত নদীর উপহাস। এই শহরে গাছ নেই, আড়াল হচ্ছে সবুজ,  ভোরের ঘাসের শিশির মাড়িয়ে, বসতি বাড়ছে রোজ।। এই শহরে চাঁদের আলো কৃত্রিম আলোয় পূর্ণ, চোখ ধাঁধানো আলোর মাঝে, সবই যেন কেমন শূণ্য। এই শহরে ঘামে ভেজা শরীর, হারিয়ে যাচ্ছে ছায়া মায়াবী এই শহর থেকে হারাচ্ছে সব মায়া।। এই শহরে বিশাল আকাশ, বারান্দার গ্রীলে বন্দী একাকীত্ব আর ডিপ্রেশানে বাড়ছে কেবল সন্ধি।।

শেষ কথা

  : আপনি আমার কষ্টটা বুঝতে পারেন নি;  আধো মুখে বলে উঠল কাদম্বিনী, আমি তাকে ডাকি মেঘমালা বলে;  মনের আকাশে আমার শুধু তার উড়াউড়ি। ছায়ার মুখ ডাকা শরীরে কি মায়া,  দূর নিকটের সায়ারে পড়ছে তার পুলকিত ছায়া। : বুঝতে পেরেছি বলেই সরে এসেছি উদাস ভঙ্গিতে বলে ঊঠলাম আমি। দুটি সাদা বক ডানা ঝাপটে উড়ে গেলো দুদিকে মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছা করে,  তারা আবার এক হবে বা তাদের কি আবার দেখা হবে?  :আচ্ছা মনে রাখবেন আমায়? মুখটা বের করে জানতে চাইলে তুমি। আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তোমার খুঁজে,  ফিরে আসতে একটু সময় লাগল,  উত্তরটা দিতে পারিনি তোমায়। কি ই বা বলতাম তোমায় বলো?  মনে সে যে রাখার তোমাকে আমি রেখে দিয়েছি, মুখ দিয়ে তাই আর বের করে আনতে পারিনি। প্রসঙ্গ পালটে বলে উঠলাম... :সুন্দর না এই মুহূর্তটা?   বিচ্ছেদের মুহুর্ত এত সুন্দর হয় বা হতে পারে কোথায় পড়েছ বা দেখেছো?  :চিন্তা করছি এই মুহূর্তটা মনে রেখে দিবো। তোমার হাতের স্পর্শ আমি সেদিন পেয়েছিলাম; পেয়েছিলাম তোমার ঠোঁটের উষ্ণতা। সেইবেলা আকাশে চাঁদ ছিলো, বাতাসে শিউলি ঝরা গন্ধ ছিলো,  তোমার যাবার তাড়া ...

গল্প না কবিতা?

  কত সহজ করে কত কিছু চাওয়া হয়   কি ন্ত পাওয়া টা কি ততই সহজ হয়?  আমার মনে হয়, হয় না, চাওয়া সহজ হলে হোক  কিন্ত পাওয়া কঠিন না হলে  যা সহজে পাওয়া গেছে তা সহজে হারিয়ে ফেলতে পারে গুরুত্ব।  তেমনি আমি তোমাকে সহজ করে চেয়েছিলাম  যেমনটা ছোট্ট শিশু কান্না করলেই পেয়ে যায় মায়ের কোল।  চাওয়াটা সহজ ছিলো পবিত্র ছিলো কিন্ত পাওয়াটা কঠিন হবে আমি জানতাম।  প্রস্তুত ছিলাম হয়ত তাই,  মেনে নিতে পেরেছি তোমার নিরবতা  আমার প্রতি তোমার অবহেলা।  তুমি প্রশ্ন করেছিলে এত সহজে প্রেমে পড়া যায়?  বলেছিলাম প্রেমে পড়া সহজ কিন্ত প্রেম পোক্ত করা কঠিন।  সবাই প্রেমে পড়ে কিন্ত লাইলী কিংবা মজনু কজন হতে পারে?  ভেবে দেখেছো কি?  থাক অত কিছু ভাববার দরকার নাই শুধু ভেবো কাউকে ভালোবাসতে গেলে ভালোবাসা যায়,  ভালোবাসা থাকলে আপন করা যায়; যেমনটা আপন করে দূর্বা ঘাস ভোরের শিশির।  তেমনটা আপন আমি তোমায় ভেবেছিলাম তুমিও ভেবো আমায়  ক্ষণিকের হলেও হবে। সূর্যের উদয়ে আমি ঝরে যাবো  দিয়ে যাবো একরাশ সজীবতা। 

কথোপকথন ০১

ছেলেঃ কেউ আছে?? বসা যাবে?? মেয়েটা জানালার পাশে ফাঁকা সিটটা দেখে ছেলেটাকে যাবার জন্য পথটা ছেড়ে দিল। মেয়েঃ আরে  কানা নাকি?? দেখে যেতে পারেন না?? ছেলেঃ কিছুক্ষণ থতমত খেয়ে...চেষ্টা করেছিলাম কিন্ত পারিনি। দুঃখিত। মেয়েটা কিছুক্ষণ ছেলেটার তাকিয়ে রইল কিছু বলতে চেয়েও বলার মত তেমন কিছু পেল না। এভাবে দুঃ খিত বলতে কাউরে সে দেখেনি। সে হাসি লুকাতে মুখ ঘুরিয়ে নিল। ছেলেটাও কিছু বুঝতে পেরে বাসের জানালা দিয়ে মানুষ দেখতে লাগল। কত্ত রকমের মানুষ। এত্ত মানুষের মধ্যে কেবল একটি মুখই কেবল ভাসছে...সেই লুকানো হাসির মুখ। ©অল্প সময়ের ভালোলাগা।